মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অব্যাহত সংঘাতের মুখে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে উঠে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৯৪ ডলারে। এর আগের কার্যদিবসেও দুই ধরনের ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১ ডলার করে বেড়েছিল।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অধিক পরিমাণে তেলের রপ্তানি বাড়ার একটি স্পষ্ট চিত্র দেখা গেলেও এর একটি বড় অংশই করতে হচ্ছে 'শিপ-টু-শিপ' বা এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তরের মতো বিকল্প উপায়ে। এসব প্রক্রিয়ায় ব্যয় অনেক বেশি এবং স্বাভাবিক পরিপরিবহন ব্যবস্থার চেয়ে তুলনামূলক ধীরগতির। মূলত এ কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।’
পণ্যবাজার তথ্য প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল সরবরাহ বাড়ায় গত সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান উৎপাদকদের তেলের রপ্তানি দাঁড়ায় দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে, যা চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
এদিকে দীর্ঘ সাত মাসের যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। দুই দেশের কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষ আলাদা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান যে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটিরই এক সংশোধিত রূপ নিয়ে পরবর্তী বৈঠকগুলো হতে পারে।
তবে চুক্তি নিয়ে খুব একটা আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দেখছেন না আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ইউওবি-র বাজার বিশ্লেষকরা। প্রতিষ্ঠানটির এক পর্যালোচনা নোটে বলা হয়, বর্তমান বাজারে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের রেশ, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করছে। হরমুজ প্রণালীর চলমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আগেই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে খোদ ইরানি কর্মকর্তারাও সংশয় প্রকাশ করেছেন। ফলে তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
মতামত দিন