সংবাদপত্রের জন্য শুল্ক ও কর প্রত্যাহার চায় নোয়াব
বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে সংবাদপত্র রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে। শুল্ক, ভ্যাট, কর্পোরেট ট্যাক্স এই শিল্পের বিকাশে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় সংবাদ পত্র শিল্পে শুল্ক ও করনীতি প্রয়োগের বিপুল সংস্কার প্রয়োজন জানিয়েছেন বলে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ।
রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ কে আজাদ বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অবস্থায়, বিশেষত ডলারের ক্রমবর্ধমান বিনিময় হার, এই শিল্পকে নতজানু করে ফেলেছে। কয়েক বছর আগে এক টন নিউজপ্রিন্টের মূল্য ছিল ৬০০ ডলারের নিচে, এখন ৭০০ ডলারের উপরে। এটা ৬০০ ছিল কিছু সময় আগেও। এর অন্যতম প্রধান কারণ টাকা-ডলারের বিরূপ বিনিময় হার। সংবাদপত্রের আমদানী শুল্ক ৫ শতাংশ হলেও তার সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর, পরিবহন বীমা ইত্যাদিসহ ল্যাণ্ডেড ব্যয় প্রায় তিরিশ শতাংশে দাঁড়ায়।’
এ সময় নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ক ২ শতাংশ করা, ভ্যাট ১৫ শতাংশের স্থলে ৫ শতাংশ করা, সংবাদপত্র শিল্পকে সেবামূলক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে করপোরেট ট্যাক্স সর্বনিম্নে নির্ধারণ অথবা অবলোপন করার প্রস্তাব করেন তিনি।
এ কে আজাদ বলেন, ‘বিগত কয়েকবছরে সংবাদপত্র শিল্প বিকাশে সরকার আমাদের কোন প্রস্তাবনা আমলে নেয়নি। এ বছরের বাজেটে আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেওয়া হোক।’
এসময় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘ট্যাক্স দেওয়াটা সার্বজনীন ব্যাপার, গ্লোবাল প্র্যাকটিস। আপনারা যদি অন্যদেশে দেখেন, অন্যান্য দেশে খবরের কাগজ কীভাবে চিহ্নিত হয়, সেখান থেকে কীভাবে রাজস্ব নেওয়া হয়! আমার জানা মতে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় সংবাদপত্রকে অন্যভাবে ট্রিট করা হয়। তাদের কর আরও কম হয়।’
নোয়াবের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
তিনি বলেন, ‘কোন সুবিধা দিলেও সেটার অপব্যবহার করার জন্য আরেকটা দল রেডি হয়। নিউজপ্রিন্টর জন্য যদি কাগজের মূল্য বা আমদানি শুল্ক কমানো হয় সব কাগজ নিউজ প্রিন্টের আড়ালে চলে আসবে। এটা অতীতেও হয়েছে। কী পরিমান কাগজ নিউজপ্রিন্টের জন্য আসছে এটা বের করা সম্ভব নয়।এ জন্য দেখে শুনে আমরা কাজ করতে চাই।’
রাজস্ব বাড়ানোয় গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ট্যাক্স জিডিপি ও ট্যাক্স রেট বাড়াতে সচেতনতামূলক প্রচার করছে গণমাধ্যমগুলো। সামনেও গণমাধ্যম আরও ভূমিকা রাখবে।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে