Views Bangladesh Logo

আত্মহত্যা প্রতিরোধে শাস্তি নয়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর তাগিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

আত্মহত্যা প্রতিরোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ‘নীরবতা থেকে পদক্ষেপ: তরুণদের আত্মহত্যা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার।

ড. এম. এ. মুহিত বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা নিয়ে মানুষের খোলামেলা কথা বলার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। জীবনের বিভিন্ন সংকট ও প্রতিকূলতা যখন কেউ একা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন মানসিক চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এ কারণে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় ঘাটতি রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কোনো ব্যক্তি উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগলে কোথায় গেলে সহায়তা পাওয়া যাবে, অনেক ক্ষেত্রেই তা তার জানা থাকে না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কমিউনিটিভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পাবনার মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো ও সক্ষমতা বাড়াতে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। একইভাবে ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে টেলি কাউন্সেলিং, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং কমিউনিটিভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম কাজে লাগানো যেতে পারে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র পর্যন্ত কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।

আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত আইনি কাঠামোর সমালোচনা করে ড. এম. এ. মুহিত বলেন, বর্তমান আইনে আত্মহত্যার ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করায় নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে আত্মহত্যাকে ঘিরে বিদ্যমান সামাজিক কলঙ্ক আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আত্মহত্যাকে অপরাধ হিসেবে না দেখে বিষয়টিকে মানসিক স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনগত জটিলতাগুলো বোঝার চেষ্টা করবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে বিষয়টি কীভাবে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তার।

মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল চিকিৎসাব্যবস্থার অংশ হিসেবে না দেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব সম্পর্কেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। নিজের পাশাপাশি অন্যের মানসিক অবস্থার প্রতিও যাতে মানুষ দায়িত্বশীল আচরণ করেন, সেই পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সেমিনারে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রফেশনাল অফিসার হাসিনা মমতাজসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ