পাঠদান বন্ধ করে বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়
বিদ্যালয় পাঠদানের জায়গা, রাজনৈতিক কর্মসূচির নয়; কিন্তু এমনই ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ইউনিয়নে। একই দিনে সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। গতকাল (২৮ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন। গত বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কর্মসূচির কারণে পাঠদান বিঘ্নিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেনি।
কিন্তু জেলা বিএনপির প্যাডে কমিটি গঠনের যে সিডিউল দেয়া হয়েছে এতে বুধবারের কর্মসূচির তালিকায় বেশ কয়েকটি স্কুলের নাম রয়েছে। বিদ্যালয়ে এমন কর্মসূচিতে অভিভাবকদের পাশাপাশি বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, শত শত নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ায় পাঠদান সম্ভব হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে যেতে না পেরে ফিরে গেছে। এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে উল্লেখ করে এক বিএনপি কর্মী বলেন, জেলা নেতাদের কারণেই এভাবে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
এ নিয়ে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের তর্ক-বিতর্ক চললেও ঘটনাটির প্রমাণ শিক্ষার্থীদের কাছে আছে বলে জানা গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়টি নতুন নয়। অনেক সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার নামেও অনেক রাজনৈতিক দল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালান।
রাজনীতির শিকারে আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী পরিণতি হয়েছে তা আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। এখন কি এর থেকে বিদ্যালয়ের শিশুদেরও মুক্তি নেই? শিশুরা রাজনীতির কী বুঝে? কেন তাদের এভাবে হয়রানির শিকার করা হচ্ছে?
আর স্থানীয় পর্যায়ের, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেই কেন? এদের কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। বিগত বছরগুলোতেও আমরা দেখেছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের কি আর কোনো জায়গা নেই? অনেক সময় আশপাশে উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্র বানানো হয় যা একেবারেই অনুচিত।
আমরা আশা করব এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো সচেতন হবে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সঠিক নির্দেশনা থাকতে হবে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ যেন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা না করেন। এভাবে সব রাজনৈতিক দলগুলোকেই সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি কোনোভাবেই করা যাবে না। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে