হামের টিকার ঘাটতিতে তদন্তের প্রয়োজন নেই, দায় অন্তর্বর্তী সরকারের: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
দেশে চলমান হামের টিকার সংকটের কারণ ইতোমধ্যেই স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তার মতে, এ বিষয়ে নতুন করে কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই, কারণ টিকা ঘাটতির পেছনের কারণ সবারই জানা।
রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হামের টিকার সংকট মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের ফল। বিশেষ করে টিকা সংগ্রহ ও অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় টিকা কেনা সম্ভব হয়নি।
জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর জাতীয় পর্যায়ে হামের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৫ সালের শুরুর মধ্যে এমন একটি টিকাদান কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তার দাবি, তখনকার প্রশাসন বিদ্যমান অপারেশনাল প্ল্যান বাতিল করে উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ডিপিপির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা না থাকায় সময়মতো টিকা সংগ্রহ করা যায়নি।
তিনি বলেন, নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু হামের টিকা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এবং তারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেনি।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের টিকা ঘাটতি এবং নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার প্রভাব এখন দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে শত শত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টিকা সংকটের বিষয়ে সরকার কোনো তদন্ত করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পরিস্থিতির কারণ এতটাই স্পষ্ট যে এ নিয়ে আলাদা তদন্তের প্রয়োজন নেই। সমস্যার উৎস চিহ্নিত করা গেছে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
মতামত দিন