Views Bangladesh Logo

চাল নিয়ে চালবাজি আর নয়

মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষের দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভোক্তাবাজারে চাল থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এর মধ্যে সিন্ডিকেট চক্র কখনো চাল, কখনো আলু, কখনো ভোজ্যতেল, কখনো ডিম আবার কখনো চিনির দাম বাড়িয়ে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গত ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় চালের হাঠাৎ মূল্য বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি, নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর, যার কারণে আমাদের ফসল ভালো হয়েছে। চালের উৎপাদন বেড়েছে; কিন্তু ঠিক নির্বাচনের পর ভরা মৌসুমে দাম বাড়াটা খুবই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এর পেছনে কাদের কারসাজি আছে, সেটা খুঁজে বের করা দরকার। শুধু দরকার না, বরং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে বলতে চাই, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শুধু তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিলেই চলবে না, পাশাপাশি তাদের চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে করে তারা বারবার দেশের ভোক্তাদের হয়রানি করার সুযোগ না পায়।

আমরা অতীতে দেখেছি, চালসহ কয়েটি নিত্যপণ্যের দাম কমাতে সরকার অনেক উদ্যোগ নিলেও সেসব উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। আর এ কারণেই স্বল্পমূল্যে ওএমএস চালু এবং দফায় দফায় শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি খাতকে চাল আমদানির সুযোগ দিয়েও সুফল পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবেও চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, মানুষকে জিম্মি করে চালবাজরা আর কতদিন অনৈতিক ব্যবসা চালিয়ে যাবে? অভিযোগ রয়েছে, বাজার পর্যবেক্ষণে জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

দেশে চালের বাজারে হরেকরকম প্রতারণা চলছে। যে নামে ধানের কোনো অস্তিত্বই নেই, সেই নামের চাল বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মেশিনে কেটে মোটা চাল চিকন করে ভিন্ন নামে বিক্রি হচ্ছে। চালের ওপরের অংশ ফেলে দিলে এর পুষ্টিমান নষ্ট হয়। ফলে ভোক্তা চিকন চাল ভোগ করার কারণে চালের প্রকৃত পুষ্টিগুণ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। মোটা চাল চিকন করার কাজে যেসব যন্ত্র ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর দাম নাকি কোটি টাকা। চালকল মালিকরা এ বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে বিভিন্ন কৌশলে তা ভোক্তাদের কাছ থেকেই আদায় করে। প্রশ্ন হলো, এ বিষয়ে যাদের নজরদারি থাকার কথা, তারা কী করছেন?

তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল সিন্ডিকেটের অসাধু সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের সব ব্যবসায়ীকে কঠোর জবাবদিহিতায় আনা না গেলে চালের বাজারের অস্থিরতা কমবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। কাজেই শুধু চাল নয়, যে কোনো ধরনের নিত্যপ্রয়োজীয় পণ্য, বিশেষত ভোগ্যপণ্য আর যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে, এ বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ