‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবেন না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর সপ্তম দিনে শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কয়েকটি দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, ইরান আত্মসমর্পণ করার পর নতুন ‘গ্রহণযোগ্য’ নেতৃত্ব নির্বাচন হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তা করবে। তিনি লেখেন, ইরান আত্মসমর্পণ করে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা বা নেতৃত্ব নির্বাচন করলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা দেশটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে এবং অর্থনৈতিকভাবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, ‘তারা ফোন করছে। তারা জানতে চাইছে কীভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। আমি বলেছি, তোমরা অনেক দেরি করে ফেলেছ।’
এর আগে বিভিন্ন সময়েও ট্রাম্প ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে এবং দেশটির রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)–কে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত বুধবার তিনি দাবি করেন, ইরান আলোচনার পথ খুঁজছে, তবে তার মতে এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনারও কোনো প্রয়োজন দেখছে না। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করছি না। আমরা তাদের সঙ্গে দুবার আলোচনা করেছি এবং প্রতিবারই তারা আলোচনার মাঝপথে আমাদের ওপর হামলা করেছে। তাই এখন আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না।’
বিবিসির ওয়াশিংটন করেসপনডেন্ট ড্যানিয়েল বুশের মতে, ইরানের প্রতি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাত দ্রুত থামানোর সম্ভাব্য পথগুলো প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে