Views Bangladesh Logo

সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প নয়, সম্প্রীতির বন্ধনে এগিয়ে চলি

হু ধর্মের মানুষের বাস বাংলাদেশে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ আরও নানা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম-সংস্কৃতি নিয়ে হাজার বছর ধরেই শান্তি-সম্প্রীতির সঙ্গে পাশাপাশি বাস করে আসছে। একই সঙ্গে বারবারই এ দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার দৃষ্টান্তও দেশের মানুষের সামনে রয়েছে।

সম্প্রতি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চলমান পরিস্থিতিতেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে সনাতন ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন স্থানে তাদের ওপর হামলার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। বেশ কিছু প্রার্থনাগৃহ ভাঙা হয়েছে। অনেকের ধারণা, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই এসব করা হচ্ছে।

সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধের ডাক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশও করছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। গত দুই দিনে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িঘরে হামলা বন্ধ, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, যখনই সরকার পরিবর্তন হয়, প্রতিবারই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ হামলা-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে আরও জানা গেছে৷ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য, তাদের উপাসনালয় রক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী পাহারা দিচ্ছে; কিন্তু এটা তো কোনো স্থায়ী সমাধান না। এমন কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যদি সংখ্যালঘুদের পাহারা দেয় এটাও স্থায়ী সমাধান না। সমাধান একমাত্র সম্প্রীতির বন্ধনের মধ্যেই নিবদ্ধ। আর সেই সম্প্রীতি জেগে উঠবে দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে বড় সমস্যা হয়ে যাচ্ছে যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যারও সাময়িক সমাধান। পারস্পরিক বোঝাপড়া দিয়ে সামাজিক অগ্রগতি এবং স্থায়ী সমাধানের প্রচেষ্টা নেই।

দেশে এক নতুন গণজাগরণ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী জনতার এই নবজাগরণকে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সম্প্রীতি-বন্ধন ছাড়া তা সম্ভব নয়। যদি ধর্মে ধর্মে হানাহানি অব্যাহত থাকে, তাহলে তৃতীয় পক্ষ সর্বদাই সুযোগ খুঁজবে। আমাদের মধ্যে বিভাজন আরও বাড়বে। তাই অন্যের ধর্মের প্রতি সম্মান-শ্রদ্ধা প্রদর্শনই আমাদের এই বিষম্য, বৈরিতা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এই সুযোগে অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, নানা সুযোগ নিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হচ্ছে ধীরে ধীরে। আমরা চাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। তারা যেন কোনোভাবেই নিরাপত্তাহীন বোধ না করেন। আর সাম্প্রদায়িক হামলাকারী একং উসকানিদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প নয়, সম্প্রীতির বন্ধনে এগিয়ে চলি, গড়ে তুলি শান্তি-সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ