মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর-হামলায় গ্রেপ্তার ৯, দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার
ঢাকার মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট এবং ভবন ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আখতার হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হামলা ও লুটপাটে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।
গত শুক্রবার গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে রাড্ডা এমসিএইচের একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ লেখা সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী সংস্থাটির অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করা হয়।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হানিফ অবশ্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাতুড়ি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রাচীর টপকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। পরে এক্সকেভেটর নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। সেখান থেকে ওষুধ ও বিভিন্ন সামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)। শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং টাকার বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর শনিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, হামলার ঘটনায় পুলিশের কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাস্থলের কাছেই থানা থাকা সত্ত্বেও কেন হামলা ঠেকানো গেল না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ খবর পাওয়ার পর সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন