Views Bangladesh Logo

এক দিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর নীলফামারীর লাবনী

নীলফামারীর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবনী এক দিনের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বসের প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ‘গার্লস টেকওভার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সুযোগ পান তিনি।

লাবনী স্থানীয় একটি যুবসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতামূলক কাজ করছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কিশোরীদের নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতি বছর ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোরীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার নেতৃত্বের আসনে প্রতীকীভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিশোরীদের অংশগ্রহণের অধিকার ও নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ‘End child marriage and invest in girls’ rights’। অর্থাৎ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।

লাবনী বলেন, ‘গার্লস টেকওভারে অংশ নিয়ে আমি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা পেয়েছি এবং কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা জানতে পেরেছি। এই অভিজ্ঞতা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অভিজ্ঞ মানুষদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং বুঝতে পেরেছি, আমাদের মতো কিশোরীদের কথারও গুরুত্ব আছে। এখান থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আমার এলাকার অন্য তরুণদের সঙ্গে বিনিময় করতে চাই, যাতে তারাও নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এগিয়ে আসে।’

নীলফামারীর একটি স্থানীয় যুবসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে লাবনী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মেয়েদের শিক্ষা, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করার পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের আবার পড়াশোনায় ফিরতে উৎসাহিত করেছেন তিনি।

এ ছাড়া কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি প্যাড বিতরণ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকারবিষয়ক কার্যক্রম, রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন লাবনী। এসব কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার পাশাপাশি তরুণদের সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতে চান তিনি।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘যুব নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার এই উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি, লাবনীর মতো যুব নারীদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও নতুন চিন্তাভাবনা আমাদের কাজকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ করে তুলতে পারে।’

‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লাবনী ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, কন্যাশিশুর শিক্ষার অধিকার এবং তরুণীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

লাবনী এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়তে চান, যেখানে মেয়েরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে, নিজেদের জীবন সম্পর্কে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং বাল্যবিবাহ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত থাকবে। নিজের অভিজ্ঞতা এলাকার অন্য কিশোরীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে তাদেরও নেতৃত্ব ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে চান তিনি।

এ বছর জাতীয় পর্যায়ে একাধিক ‘গার্লস টেকওভার’ আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে কিশোরীরা প্রতীকীভাবে সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছে। এর মাধ্যমে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ কন্যাশিশুদের আকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় তুলে ধরছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ