ভবিষ্যদ্বাণী করা সেই অর্থনীতিবিদকে নেইমারের খোঁচা!
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে একের পর এক নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়ে ফুটবল বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও তাঁর গাণিতিক মডেলের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল উপহার দেবে আসরের সবচেয়ে বড় হতাশা!
তবে মাঠের ফুটবলে ব্রাজিলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ভেস্তে গেছে সেই গাণিতিক হিসাব। আর ম্যাচ শেষেই সেই 'ভবিষ্যদ্বক্তা' অর্থনীতিবিদকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁচা দিতে ছাড়েননি ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে সোমবার (২৯ জুন) জাপানের মুখোমুখি হয়েছিল সেলেসাওরা। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে জাপানের কাইশু সানো গোল করে দলকে লিড এনে দিলে নড়েচড়ে বসেন ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই তখন ভাবছিলেন, ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণীই হয়তো সত্যি হতে চলেছে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে ক্যাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯৬ মিনিট) গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির চোখ ধাঁধানো গোলে ব্রাজিলের শেষ ১৬ (নকআউট পর্ব) নিশ্চিত হয়।
নাটকীয় এই জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জোয়াকিম ক্লেমেন্টকে সরাসরি ট্যাগ করে একটি পোস্ট করেন নেইমার। পোস্টে তিনি লেখেন, "মিস্টার জোয়াকিম ক্লেমেন্ট... পরের বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।"
উল্লেখ্য, প্রথাগত ফুটবলীয় রেকর্ডের বাইরে গিয়ে দেশের মাথাপিছু জিডিপি, জনসংখ্যা এবং আবহাওয়ার তাপমাত্রার মতো অপ্রচলিত ভেরিয়েবল ব্যবহার করে এই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন জার্মান অর্থনীতিবিদ ক্লেমেন্ট। গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত তার গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছিল—২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে ডাচরা আর ব্রাজিল বাদ পড়বে দ্রুতই। তবে মাঠের ফুটবলের চিরচেনা রোমাঞ্চের কাছে আপাতত ভুল প্রমাণিত হলো সেই জটিল গাণিতিক সমীকরণ।
মতামত দিন