Views Bangladesh Logo

এপস্টেইন–সম্পর্কিত নতুন নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া,ক্ষমা ও পদত্যাগ

ণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট নতুন নথির বড় একটি অংশ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার প্রকাশিত এই নথিগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা, অস্বস্তি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রকাশিত নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ব্রিটিশ ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসনসহ একাধিক উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে। এসব তথ্য সামনে আসার পর কয়েকটি দেশে তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখপ্রকাশ, পদত্যাগ ও রাজনৈতিক চাপের ঘটনা ঘটেছে।

নরওয়ের রাজপরিবারে এ নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মেরিট এপস্টেইনের সঙ্গে তার পূর্বের সম্পর্কের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে হওয়া যোগাযোগের তথ্য স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি স্বীকার করেন, তিনি 'ভুল সিদ্ধান্ত' নিয়েছিলেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন। রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, ২০১৪ সালেই তিনি যোগাযোগ বন্ধ করেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন এপস্টেইন ওই সম্পর্ককে অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার করতে চাইছিলেন। বিষয়টি এমন সময় সামনে এলো, যখন তার ছেলে মারিয়ুস বর্গ হইবি নিজ দেশে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রকাশিত নথির সঙ্গে থাকা কিছু ছবিতে তাকে এক নারীর পাশে আপত্তিকর ভঙ্গিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, অ্যান্ড্রুর উচিত যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়া। এর আগে এপস্টেইন–সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে রাজা তৃতীয় চার্লস তার রাজকীয় উপাধি ও দায়িত্ব প্রত্যাহার করেন।


স্লোভাকিয়ায় এ ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাজচাক এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০১৮ সালে দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত বার্তা আদান–প্রদান হয়েছিল। তবে লাজচাক অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক আয়োজন কমিটির চেয়ারম্যান কেসি ওয়াসারম্যানও পুরনো কিছু ইমেইল প্রকাশের পর ক্ষমা চেয়েছেন। এসব ইমেইল এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার কথোপকথনের বলে জানা গেছে। ওয়াসারম্যান বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল না এবং অতীতের ওই যোগাযোগের জন্য তিনি দুঃখিত।


অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন নতুন নথি প্রকাশের পর লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাংক নথিতে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবে অর্থ লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, অভিযোগগুলো 'মিথ্যা' এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।

নতুন নথি প্রকাশের ফলে বহু বছর ধরে চলা এপস্টেইন–কাণ্ড আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি ও জনআলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ