ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন পরিকল্পনা: ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত ও যন্ত্রচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরি বন্ধ করতে নির্দিষ্ট কিছু কারখানা নির্ধারণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব অটোরিকশা বা যন্ত্রচালিত রিকশাকে অনুমতি দেওয়া হবে, সেগুলো আর যত্রতত্র তৈরি করা যাবে না। ঢাকা শহরের জন্য নির্ধারিত কিছু কারখানা ঠিক করে দেওয়া হবে। এসব কারখানায় রিকশা উৎপাদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কারিগরি সহায়তা দেবে। নির্ধারিত কারখানাগুলোর অনুমোদন এবং কারিগরি বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের পর সেখানে রিকশা উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রিকশায় সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে। এ বিষয়ে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
ঢাকার যানজট ও সড়কে বিশৃঙ্খলা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না উল্লেখ করে মো. আবদুস সালাম বলেন, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। সরকারকে সময় দিলে ধীরে ধীরে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে শাহবাগ মোড়ে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে আরও ২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি এসব যানবাহনের অনুমোদন, কারিগরি মান ও চলাচল ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মতামত দিন