Views Bangladesh Logo

টোটাল ফুটবলেই নেদারল্যান্ডসের শক্তি

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল নেদারল্যান্ডস আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখানোর লক্ষ্যে প্রস্তুত। ‘টোটাল ফুটবল’ দর্শনের জন্য বিখ্যাত এই দলটি গত কয়েক দশক ধরে আধুনিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক অনন্য উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশেলে দলটি নতুন করে গতি পেয়েছে। বল দখল, দ্রুত পাসিং ও পজিশনাল পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করাই দলটির মূল কৌশল।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী কিন্তু দুর্ভাগা দল হিসেবে পরিচিত। তারা ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে মোট তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি। বিশেষ করে ১৯৭৪ ও ২০১০ সালের ফাইনালে তাদের পরাজয় এখনো ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় থাকে। এছাড়া ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের অন্যতম শক্তি।

শক্তিমত্তা
নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা ও পাসিং ফুটবল। মাঝমাঠ থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলায় তারা পারদর্শী। ডিফেন্স থেকে আক্রমণ পর্যন্ত প্রতিটি খেলোয়াড়ের পজিশন পরিবর্তনের সক্ষমতা তাদের আলাদা করে তোলে। এছাড়া সেট-পিস থেকেও তারা অনেক সময় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে পারে।

দুর্বলতা
নেদারল্যান্ডসের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। বড় ম্যাচে কখনো কখনো মানসিক চাপ তাদের খেলায় প্রভাব ফেলে। রক্ষণভাগে দ্রুত কাউন্টার আক্রমণের বিপক্ষে কিছুটা দুর্বলতা দেখা যায়। এছাড়া প্রায়ই আক্রমণে ধারাবাহিক ফিনিশিং না থাকায় গোলের সুযোগ নষ্ট হওয়ার প্রবণতা বেশি। প্রতিপক্ষের উচ্চ প্রেসিংয়ের মুখে মাঝেমধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলে।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ডিফেন্সে ভির্জিল ফান ডাইক নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক। তিনি ইংল্যান্ডের ক্লাব লিভারপুলে খেলেন এবং রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ। আক্রমণে মেমফিস ডিপাই গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি স্পেনের ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে খেলেন। স্পেনের ক্লাব বার্সেলনায় খেলা ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং মাঝমাঠে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ ও বল দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখেতে পারেন। ইংল্যান্ডের ক্লাব লিভারপুলের খেলোয়াড় কোডি গাকপো দলের দ্রুতগতির উইঙ্গারদের একজন। ডান প্রান্তে ডেনজেল ডামফ্রিস আক্রমণে গতি ও ডিফেন্সে দৃঢ়তা এনে দেন। তিনি ইতালির ক্লাব ইন্টার মিলানের হয়ে খেলেন। এই খেলোয়াড়দের সমন্বয়ই নেদারল্যান্ডস দলকে আক্রমণাত্মক ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
এফ গ্রুপে, নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাদের দ্রুতগতির পাসিং ও সংগঠিত দলগত খেলা। এশিয়ার এই দলটি ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলে ও দ্রুত পজিশন পরিবর্তন করে, ফলে তাদের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ হবে শারীরিক ও কৌশলগত লড়াই। ইউরোপের এই দলটি শক্তিশালী ডিফেন্স, লং বল এবং সেট-পিস থেকে গোল করার দক্ষতার জন্য পরিচিত। ফলে আকাশে ভেসে আসা বল মোকাবিলা ও রক্ষণে মনোযোগ ধরে রাখা নেদারল্যান্ডসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে নেদারল্যান্ডস তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও অবহেলার সুযোগ নেই। আফ্রিকার এই দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসকে চমকে দিতে পারে। এই গ্রুপে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। নকআউট পর্বে যেতে হলে নেদারল্যান্ডসকে ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস সবসময়ই শক্তিশালি দল হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পাসিং ফুটবল ও ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তবে শিরোপার লড়াইয়ে অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। তরুণদের উদ্যম ও অভিজ্ঞদের নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করলে এবার তারা বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্নও পূরণ করতে পারে।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ