নেপালে বন্যার খবর সংগ্রহে সাংবাদিকদের জন্য কড়াকড়ি
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নতুন নির্দেশনা দিয়েছে নেপাল সরকার। শনিবার নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য প্রশাসন বিভাগ ও প্রেস শাখার নির্দেশনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি সাংবাদিকদের পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসার কপির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র বা চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে নিজ প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা নেপালে অবস্থিত দূতাবাস বা কনস্যুলার অফিসের সুপারিশপত্রও দিতে হবে।
তবে তথ্য বিভাগের মুখপাত্র গোবিন্দ প্রসাদ পান্ডে বলেছেন, এটি কোনো নতুন নীতি নয়। প্রেস পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য বিভাগের দীর্ঘদিনের নিয়মিত প্রক্রিয়াই বর্তমানে অনুসরণ করা হচ্ছে। ছাপাখানা ও সম্প্রচারসংক্রান্ত বিধি ও কার্যপ্রণালির আওতায় নেপালে কাজ করা বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য এই ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু রয়েছে।
গত বুধবার ভোরে ভোটকোশী নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনেক প্রতিনিধি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছেছেন। এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশনা সুশৃঙ্খল রাখতেই বর্তমান নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে বলে সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে।
বিদেশি সাংবাদিকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের দেওয়া পরিচয়পত্র এবং বেতন ও ভাতার বিস্তারিত বিবরণও জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে সশরীরে তথ্য বিভাগে গিয়ে প্রেস প্রতিনিধি সনদ ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
মুখপাত্র পান্ডে জানান, বিদেশি সাংবাদিকদের যাতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করতে না হয় বা কোনো ধরনের অসুবিধায় পড়তে না হয়, সে জন্য সরকারি ছুটির দিনেও তথ্য বিভাগের কার্যালয় খোলা থাকবে।
ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন কিন্তু প্রেস পাস পাননি—এমন বিদেশি সাংবাদিকদেরও সংবাদ সংগ্রহ শুরুর আগে প্রেস পাস নিতে হবে। পাস ছাড়া প্রতিবেদন তৈরি করলে তা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নেপালি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও প্রেস প্রতিনিধি সনদ বা সাংবাদিক পরিচয়পত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। তাঁদের নাগরিকত্ব সনদের কপি, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র ও সুপারিশপত্রসহ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নবায়ন বা হালনাগাদের সনদ, অঙ্গীকারনামা এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক বিবরণী জমা দিতে হবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নেপালে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের তদারকি ও তাঁদের তথ্য সংরক্ষণের জন্যই মূলত এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন