এভারেস্ট পর্বতারোহীদের খাবারে গোপনে মেশানো হয় বিষ, ২৪৬ কোটি টাকার জালিয়াতি!
নেপালের পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি। এভারেস্টের গাইডরা বিদেশি পর্বতারোহীদের খাবারে গোপনে বিষ মিশিয়ে অসুস্থ করে দিত, তারপর হেলিকপ্টারে ‘জরুরি উদ্ধার’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানি থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিত। ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে জানা গেছে, পর্বতারোহীদের খাবারে বেকিং পাউডার, কাঁচা মুরগি বা ইঁদুরের বিষ্ঠা মিশিয়ে দেওয়া হতো। এতে বমি, মাথা ঘোরা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিত, যাকে গাইডরা ‘উচ্চতাজনিত অসুস্থতা’ বলে চালিয়ে দিত। এরপর ব্যয়বহুল হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে মিথ্যা দাবি করা হতো। একই হেলিকপ্টারে একাধিক যাত্রী থাকলেও প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফ্লাইটের বিল দেওয়া হতো এবং জাল চিকিৎসা কাগজপত্র ও ভুয়া ফ্লাইট রেকর্ড তৈরি করা হতো।
এতে আরও বলা হয়, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিচালিত এই প্রতারণায় ৪ হাজার ৭৮২ জন পর্বতারোহী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৩০০টিরও বেশি ভুয়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এই চক্রে শেরপা গাইড, ট্রেকিং কোম্পানির মালিক, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং হাসপাতালের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও এই ধরনের কেলেঙ্কারির খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় প্রতারণা থামেনি। নেপালের সিআইবি প্রধান বলেছেন, অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে অপরাধ বাড়তেই থাকে। এদিকে বিমা কোম্পানিগুলো আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এই জালিয়াতি না থামলে নেপালের বিমা কভারেজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে