নেপালে সরকার পতনের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
নেপালে সরকার পতনের ছয় মাস পর আজ বৃহস্পতিবার সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনটি দেশটির তরুণ শক্তি ও পুরোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় এবং ভোটগ্রহণ চলবে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কাঠমান্ডুর সড়কগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ লাখ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। তারা সরাসরি ভোট (ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট) এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে ২৭৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন।
এ নির্বাচনে ৩,৪০০ এরও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের মধ্যে অনেকের বয়স ৪০ বছরের কম।
দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এবার নতুন একটি দলের নেতৃত্বে সাবেক র্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিওও এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুজনেই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শান্ত শহর ঝাপা থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ভোটগ্রহণ শেষে নেপালের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল থেকে ব্যালট বাক্স পরিবহন একটি বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারি জানিয়েছেন, প্রাথমিক ফলাফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আসতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে এবং জোট সরকার গঠন সংক্রান্ত আলোচনা জটিল হলে আরও বেশি সময় নিতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনে কোনো একক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের সম্ভাবনা কম।
গত সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের মাধ্যমে কে পি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে এবং এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার, যার প্রধান হিসেবে শপথ নেন দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে