Views Bangladesh Logo

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, ৪০০’র বেশি নিখোঁজ

নেপালের তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রাসুওয়া জেলায় ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালের এই দুর্যোগে নিখোঁজ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ, যার মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক। বন্যায় একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মী এবং কয়েকজন বিদেশি পর্যটকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ৩৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন স্থানীয় নেপালি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীরাও রয়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে দুর্যোগে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নিরূপণ করতে কয়েক দিন সময় লাগবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ভয়াবহ এই বন্যার ঘটনায় তার হৃদয় ভারাক্রান্ত।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র জাতি এই প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতিতে হতবাক ও গভীরভাবে শোকাহত।’

এই দুর্যোগটিকে “আকস্মিক” ও “ব্যাপক” বলে বর্ণনা করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী জানান, উদ্ধার তৎপরতার জন্য সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েছে এবং রাতভর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, “আহতদের জীবন বাঁচানো, নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়াই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, ৪০৩ জনকে নিখোঁজ রয়েছে। যাদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি এই আকস্মিক বন্যার কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা। দুর্যোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাধি সীমান্ত ফটকের প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বরফ ও পাথরের ধসের ফলে লেন্দে নদীতে যে ধ্বংসাবশেষ জমা হয়, তা থেকেই ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানান, ভূমিকম্পের ফলে হিমবাহ ধসের জেরে এই বন্যা হয়ে থাকতে পারে, যা আরও যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তিব্বত অংশে ভূমিধসে নদী অবরুদ্ধ হয়ে কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টির পর তা ভেঙে পানি নিচে নেমে আসার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ। নেপালি ভূখণ্ডে বৃষ্টি না হলেও তিব্বত অংশে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছিল।

নেপালি কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, বন্যার আগে ওই অঞ্চলে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি, তবে তিব্বতের অংশে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর জুলাইয়ে একই ভোটেকোশি নদীতে বৃষ্টি ছাড়াই আকস্মিক বন্যায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং নেপাল-চীন সংযোগকারী মিতেরি সেতু (ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ) ভেসে গিয়েছিল।

বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সড়ক, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সম্পদ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে রাসুওয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় সরকারগুলোকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগ-দুর্গত এলাকা ঘোষণারও সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র: দ্য হিন্দু

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ