২০২৭ সালের মধ্যে পেপারলেস ও ক্যাশলেস হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
ডিজিটাল অটোমেশনের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরোপুরি পেপারলেস ও ক্যাশলেস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ইতোমধ্যে ক্যাশলেস করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এখনো নগদ অর্থের ব্যবহার থাকলেও আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেটিও পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নগদবিহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে পেপারলেস বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে কোনো ধরনের প্রিন্ট আউটের প্রয়োজন হবে না।
উপাচার্যের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাগজ ব্যবহার ও অপচয় হয়। ডিজিটাল ব্যবস্থায় পুরোপুরি চলে গেলে কাগজের ব্যবহার কমার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে।
পরীক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল অটোমেশনের অগ্রগতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, কোনো পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হলে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যেই কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন অনুপস্থিত রয়েছেন, সেই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে গত সাত মাসেই পরীক্ষা দিয়েছেন ১৬ লাখ শিক্ষার্থী।
দ্রুততম সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান উপাচার্য। আগামী ১ অক্টোবর অক্সফোর্ড অ্যাসেসমেন্ট অথরিটির একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে আসবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন