২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা আজ
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠনের পর আজ বৃহস্পতিবার নিজেদের প্রথম জাতীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন প্রশাসনের জন্য একে একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের এটিই প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট হলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এটি ১৩তম বাজেট উপস্থাপন।
চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারের মাঝে সরকারের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯.৩৮ ট্রিলিয়ন (৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি) টাকা। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট হতে যাচ্ছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯.৩৮ ট্রিলিয়ন টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৭.৮৮ ট্রিলিয়ন টাকা) তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭.৯০ ট্রিলিয়ন টাকা।
প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে পরিচালন বা অনুন্নয়ন ব্যয় খাতে ৬.০৬ ট্রিলিয়ন টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যয় হবে। অন্যদিকে, অবকাঠামো নির্মাণ, জনসেবা ও প্রবৃদ্ধি-সহায়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩.১৬ ট্রিলিয়ন টাকা।
দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরে জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা পূরণ, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নতুন সরকার কী ধরণের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ও নীতি নির্ধারণ করছে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা মিলবে এই বাজেট উপস্থাপনায়।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেদিকেই এখন গভীর নজর রাখছেন দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

মতামত দিন