Views Bangladesh Logo

বিয়ে করে অপরাধ করেননি ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা: আদালতের রায়

আইনগতভাবে আগের বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় খালাস পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেন।

রায়ে আদালত বলেছেন, নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ে অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তারা উভয়েই মামলা থেকে খালাস পান।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তামিমার সাবেক স্বামী দাবি করা রাকিব হোসেন আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। কিন্তু বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই তামিমা ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।

এই অভিযোগে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন রাকিব।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে আসামি করা হয়।

তবে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের সময় আদালত সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেন এবং নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নাসির-তামিমা পক্ষ রিভিশন আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। একইভাবে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের আবেদনও নাকচ হয়। এর ফলে মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে থাকে।

২০২৩ সালের ২০ মার্চ বাদী রাকিব হোসেনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

এরপর চলতি বছরের ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় নাসির ও তামিমা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তামিমা সুলতানা।

আদালতে তিনি দাবি করেন, আগের স্বামী রাকিব হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সাংসারিক ও মানসিক অমিল চলছিল। সেই কারণে বৈধভাবে তালাক সম্পন্ন হওয়ার পরই তিনি ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।

তার বক্তব্য ছিল, ‘কোনো ধরনের অবৈধ সম্পর্ক বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি।’

মামলায় নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি এবং তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে নাসির হোসেনের সর্বোচ্চ সাত বছর এবং তামিমা সুলতানার সর্বোচ্চ ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারত।

তবে দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি পর্যালোচনার পর আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায় দেন।

রায়ের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। রায় ঘোষণার পর তাদের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ