Views Bangladesh Logo

জান্তা পরিচালিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে মিয়ানমারের সামরিকপন্থী দল জয়ী: সরকারি ফলাফল

মিয়ানমারের প্রভাবশালী সামরিকপন্থী দল জান্তা পরিচালিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে জয়ী হয়েছে। রোববার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিম্নকক্ষের প্রায় ৯০ শতাংশ আসন পেয়েছে।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দাউ অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। বর্তমানে তারা এক মাসব্যাপী ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে।

তবে পশ্চিমা কূটনীতিক ও গণতন্ত্রপন্থীরা এই নির্বাচনকে সামরিক শাসনকে নতুন রূপে উপস্থাপনের কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা দাউ অং সান সু চির কারাবাস, তার দলের বিলুপ্তি, ভিন্নমত দমনের অভিযান এবং সামরিকপন্থীদের পক্ষে সাজানো নির্বাচনী ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এএফপির হিসাবে, শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত ১০২টি নিম্নকক্ষের আসনের মধ্যে ইউএসডিপি ৮৯টি আসনে জয় পেয়েছে।

এই জয় প্রথম ধাপের ভোটে অন্তর্ভুক্ত নিম্নকক্ষের আসনের ৮৭ শতাংশেরও বেশি, বাকি আসনগুলোর বেশিরভাগই পেয়েছে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বকারী ছোট দলগুলো।

অনেক বিশ্লেষক ও গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক ইউএসডিপিকে সামরিক বাহিনীর প্রক্সি দল হিসেবে বর্ণনা করেন। কারণ, দলটির শীর্ষ পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার উপস্থিতি রয়েছে।

ভোটের তৃতীয় ও শেষ ধাপ ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পরেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, দেশের সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী নিম্নকক্ষের এক-চতুর্থাংশ আসন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভা পদ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

২০২০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে ইউএসডিপিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিল দাউ অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। পরে সামরিক বাহিনী ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সেই নির্বাচন বাতিল করে অভ্যুত্থান ঘটায়।

বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী দাউ অং সান সু চি যোগাযোগবিহীন অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছেন এবং এনএলডি এবারের ব্যালটে অংশ নিচ্ছে না।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা গেরিলা ইউনিট গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভোট ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছে। জান্তাও স্বীকার করেছে যে দেশজুড়ে ভোট আয়োজন সম্ভব নয়, তবে হারানো এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্যে তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ