Views Bangladesh Logo

ফ্রান্সকে হারানোর স্বপ্নে মরক্কো, আটলাস লায়ন্সকে এগিয়ে রাখছে যে ৫ শক্তি

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে মরক্কো। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বোস্টনে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। প্রতিপক্ষের নাম যতই বড় হোক, আত্মবিশ্বাসে ভাটা নেই মরক্কো শিবিরে। বরং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, কৌশলগত পরিবর্তন এবং শক্তিশালী দলীয় সমন্বয় তাদের বিশ্বাস জোগাচ্ছে যে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়া সম্ভব। ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

বড় দলের বিপক্ষে ভয়হীন মানসিকতা

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই মরক্কো দেখিয়েছে, প্রতিপক্ষের নাম নয়, নিজেদের খেলাতেই তাদের আস্থা। গ্রুপ পর্বে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে তারা নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয়। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপেও স্পেনকে টাইব্রেকারে হারানোর পাশাপাশি বেলজিয়াম ও পর্তুগালকে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছিল আটলাস লায়ন্স। যদিও সেই যাত্রা থেমেছিল সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছেই। এবার সেই হার শোধের সুযোগ এসেছে।

নতুন কোচ, নতুন ফুটবল দর্শন


বিশ্বকাপের আগে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মরক্কোর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে দলটি আগের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। শুধু রক্ষণভাগে নির্ভর না করে বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে তারা। ব্রাজিলের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আধিপত্যপূর্ণ জয় সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। এবারের আসরে ইতোমধ্যে ১০ গোল করে বিশ্বকাপে আফ্রিকার কোনো দলের যৌথ সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও ছুঁয়েছে মরক্কো।

হাকিমির অভিজ্ঞতা হতে পারে বড় অস্ত্র

মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির সামনে থাকবেন পরিচিত কয়েকজন প্রতিপক্ষ। কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে অতীতে একই ক্লাবে খেলেছেন তিনি। বর্তমানে উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে এবং ব্রাডলি বারকোলারও সতীর্থ হাকিমি। ফলে ফরাসি আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের শক্তি, দুর্বলতা এবং খেলার ধরন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা মরক্কোর জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।

তারকার ঝলকের বাইরে দলীয় শক্তি

এবারের মরক্কো কেবল একজন বা দুজন তারকার ওপর নির্ভরশীল নয়। ইসমাইল সাইবারি, আইয়ুব বোয়াদ্দি ও নেইল এল আয়নাওই ধারাবাহিকভাবে দারুণ পারফর্ম করছেন। অন্যদিকে নোউসাইর মাজরাওউই ও ব্রাহিম দিয়াজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ফলে আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণ—সব বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়ে তুলেছে মরক্কো।

টাইব্রেকারে বুনোই সবচেয়ে বড় ভরসা


নির্ধারিত সময় কিংবা অতিরিক্ত সময়েও ফল না এলে টাইব্রেকারে মরক্কোর সবচেয়ে বড় নির্ভরতার নাম ইয়াসিন বুনো। ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকিয়ে তিনি দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আবারও নায়ক হয়েছেন এই গোলরক্ষক। তাই ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে গড়ায়, মরক্কোর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যাবে।

চার বছর আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে থেমে গিয়েছিল মরক্কোর রূপকথা। তবে এবার ইতিহাস বদলানোর প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামবে আটলাস লায়ন্স। দুর্দান্ত ফর্ম, আত্মবিশ্বাস, কৌশলগত পরিবর্তন এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে তারা বিশ্বাস করছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে আবারও শেষ চারের টিকিট কেটে নতুন ইতিহাস লেখা সম্ভব।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ