প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত বিচারে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ মোদির
ভারতে বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেশটির তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না।’
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার চেষ্টাকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
দেশটিতে একের পর এক নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে মোদির এই ঘোষণা এলো। অন্যদিকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ জোরদার করেছে বিরোধী দলগুলো। তারা বারবার পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।
বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে ১৫০টিরও বেশি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) এক বৈঠকে প্রশ্নফাঁসকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন মোদি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দল কংগ্রেসও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দলটি বলেছে, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।’
সরকার সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পূর্বশর্ত দিয়ে বিরোধী দলগুলো সংসদের কার্যক্রম অচল করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মতামত দিন