ককরোচ আন্দোলনে কটূক্তিকারীদের ‘পথভ্রষ্ট সন্তান’ বললেন মোদি, তবু করলেন ক্ষমা
‘ককরোচ’ আন্দোলনের সময় তাঁর উদ্দেশে কটূক্তি করা তরুণদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের ‘পথভ্রষ্ট সন্তান’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, শাস্তি নয়, সঠিক পথ দেখানোই এখন কর্তব্য। তবে রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন নিয়ে তিনি নীরব থাকায় সমালোচনাও উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘শাস্তি দিয়ে, আদালতে ঘোরানো বা সমাজে হয়রানি করে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা যাবে না।’ বিক্ষোভের সময় তাঁর ও তাঁর প্রয়াত মায়ের উদ্দেশে ‘জঘন্য ভাষা’ ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা কীভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে, তা আমাদের জন্য সাংস্কৃতিক ধাক্কা।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই।’ একটি উপমা টেনে তিনি বলেন, দাঁতের কামড়ে জিভ কেটে রক্ত বেরোলেও কেউ নিজের দাঁত ভেঙে ফেলে না, কারণ দাঁত তো নিজেরই।
গত মে মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা বাতিল করা হয়, ফলে ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীকে পরের মাসে আবার পরীক্ষা দিতে হয়। এর জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন, যা ক্রমে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম, ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। নয়াদিল্লিতে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এদিকে গত শুক্রবার পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফেসবুকে মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে হায়দরাবাদে মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মতামত দিন