Views Bangladesh Logo

ভয়েস কল থেকে ৮ বছরে মোবাইল অপারেটরদের বাড়তি আয় ৩৭ হাজার কোটি টাকা

২০১৮ সালে বিটিআরসি ভয়েস কলে সর্বনিম্ন মূল্য প্রতি মিনিট ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করার পর থেকে গত ৮ বছরে মোবাইল অপারেটররা ভয়েস কল থেকে বাড়তি আয় করেছে ৩৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এই বাড়তি আয়ের সিংহভাগ এসেছে সেই নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছ থেকে, যারা এখনও ইন্টারনেট সেবার বাইরে এবং যোগাযোগের জন্য কেবল ভয়েস কলের ওপর নির্ভরশীল।

রোববার (৫ এপ্রিল) বেসিস কার্যালয়ে টেক ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিপাপ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রবির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাতাব উদ্দিন আহমেদের উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত থেকে এ চিত্র উঠে আসে। সভায় আরও অংশ নেন বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস অনুবিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফারহান আলম, টিপাপ আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিয়েটস অব বাংলাদেশের সভাপতি হোসন সাদাত, রবির চিফ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম এবং বাংলালিংকের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল মাসুদ।

মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, ২০১৮ সালের আগে গ্রাহকরা প্রতি মিনিট মাত্র ১০ পয়সায় কথা বলতে পারতেন। বিটিআরসির নতুন মূল্য নির্ধারণের পর সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তার হিসাব অনুযায়ী, এই ফ্লোর প্রাইসের কারণে মোবাইল অপারেটররা প্রতি মাসে ভয়েস কল থেকে গড়ে ৩৮৭ কোটি টাকা বাড়তি আয় করছে। ৮ বছরে চারটি অপারেটর মিলে মোট বাড়তি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকায়।

মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ আরও জানান, বাংলাদেশে গত প্রায় ১০ বছর ধরেই নিম্ন আয়ের মানুষ কম দামে ফিচার ফোন ব্যবহার করে এবং সরাসরি ভয়েস কল ছাড়া কথা বলে না। এ কারনে অপারেটরদের ভয়েস কল থেকে বাড়তি আয়ে বড় অবদান নিম্ন আয়ের মানুষেরই। ফলে বিটিআরসি নির্ধারিত ভয়েস কল ফ্লোর প্রাইসে নিম্ন আয়ের মানুষই শোষিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই ফ্লোর প্রাইস হচ্ছে মান্ধাতার আমলের কনসেপ্ট এবং এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয়ের নিশ্চিত সুযোগ থাকার কারনে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং ডিজিটাল সার্ভিস বাড়াতে মোবাইল অপারেটররা উৎসাহিত হচ্ছে না। বর্তমানে দুনিয়ার কোন দেশেই এ ধরনের ফ্লোর প্রাইস নাই বলেও তিনি তথ্য তুলে ধরেন।

তবে রবির শাহেদ আলম আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে দিলে মোবাইল ইন্টারনেটের দাম বাড়তে পারে এবং সরকারের রাজস্ব কমতে পারে। এর জবাবে মাহাতাব উদ্দিন বলেন, এই আশঙ্কা ভিত্তিহীন। তার যুক্তি, ভয়েস কলের দাম কমলে ডেটাভিত্তিক সেবা ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়বে, যা সরকারের রাজস্ব আরও বৃদ্ধি করবে। তিনি অপারেটরদের জন্য আরও বেশি ডিজিটাল সেবার সুযোগ তৈরি এবং বেতার তরঙ্গের মূল্য কমানোরও সুপারিশ করেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ