Views Bangladesh Logo

শান্তিকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রস্তুত ভারত: রাজনাথ সিং

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে দেশটির শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া অব্যাহত রাখলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাজনাথ সিং। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সামরিক প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশটির জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায় এবং অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড দখলের আকাঙ্ক্ষা রাখে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অভিযান চালানোর জন্য ভারত প্রস্তুত থাকবে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে তিনি পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তার দেশ সংলাপ ও সহযোগিতায় বিশ্বাসী। কিন্তু কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ আর চলতে পারে না। জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে ভারতের পক্ষে সহযোগিতা বা সমঝোতায় যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যযুদ্ধ ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধের সময়সীমা ক্রমেই অনির্দিষ্ট হয়ে পড়ছে এবং মাঝেমধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পর বিরতি তৈরি হচ্ছে।

জেনারেল শেঠের মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে স্পষ্ট ও বাস্তব মাপকাঠি হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য, বয়ান ও তথ্যযুদ্ধের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। কিন্তু এসব বিভ্রান্তির মধ্যেও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণই বিজয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতের সেনাপ্রধান বলেন, কোনো ভূখণ্ড দখল করা, নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে স্থলবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য। এ কারণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধেও স্থলভাগে কার্যকর সামরিক উপস্থিতির গুরুত্ব কমবে না।

বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ের একটি ঐতিহাসিক ছবির প্রসঙ্গও টানেন জেনারেল শেঠ। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ওই ছবিকে তিনি যুদ্ধের সমাপ্তির একটি স্পষ্ট মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বর্তমান সংঘাতগুলোতে এমন নির্দিষ্ট সমাপ্তির মুহূর্ত সব সময় দেখা যাচ্ছে না।

জেনারেল শেঠ আরও বলেন, বর্তমান যুদ্ধগুলোকে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের মধ্যে বিরতিও এখন সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে। তবে এসব বিরতি সংঘাতের ওপর কোনো পক্ষের আধিপত্যের প্রমাণ নয়; বরং সংঘাতের তীব্রতা ও ধরনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্বও তুলে ধরেন ভারতের সেনাপ্রধান। তার মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে নিজস্ব সক্ষমতা ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভর করার ক্ষমতা সামরিক ফলাফলে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ