লাখো মানুষের ঢল, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় প্রতিশোধের স্লোগানে মুখর তেহরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষ বিদায়ে অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠানে ১০ লাখের বেশি মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ অশ্রুসিক্ত হয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানজুড়ে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের দাবিও ছিল প্রবল। অনেক শোকাহত মানুষ প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা বহন করেন এবং ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ ও ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা যায়, বিশেষ কাচঘেরা কফিনে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। একই স্থানে তার পরিবারের নিহত সদস্যদের মরদেহও রাখা হয়। শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও আশপাশের এলাকায় মানুষের সমাগম শুরু হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুরো এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনেককে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। তেহরান মেট্রোর বিভিন্ন স্টেশনেও দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়।
শোকাহত এক নারী সোমাইয়া আল জাজিরাকে বলেন, আমরা আমাদের নেতার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এসেছি। এই অপেক্ষা যেমন মধুর, তেমনি বেদনাদায়ক।
রাষ্ট্রীয় এই বিদায় অনুষ্ঠানে পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এছাড়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ডি-৮-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে তেহরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনে তেহরানে নিজ বাসভবনে নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। পরবর্তী সংঘাতের কারণে তার দাফন স্থগিত রাখা হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির পর চার মাস পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হওয়া শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিনব্যাপী চলবে।
মতামত দিন