অস্থায়ী সুরক্ষায় থাকা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) পাওয়া অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি পথ খুঁজতে হবে, নতুবা নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন।
রোববার (২৮ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে লাখ লাখ হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দেয়। এরপরই এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুলিন।
তিনি বলেন, যাদের টিপিএস রয়েছে, তাদের হয় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করতে হবে, নয়তো আমরা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব।
মুলিন আরও বলেন, ফিরে যেতে ইচ্ছুকদের বিমানের টিকিটের পাশাপাশি নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। আদালতের রায় এবং কর্মসূচির নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা, স্থায়ী নয়।
মার্কিন ফেডারেল আইনে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য গুরুতর সংকটের কারণে নিজ দেশ ছেড়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। এতদিন বিভিন্ন প্রশাসন টিপিএসের মেয়াদ বাড়ালেও এবার তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ব্যাপক সহিংসতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও অপহরণের ঝুঁকির কারণে হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে।
২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওহাইওতে বসবাসকারী হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের গৃহপালিত প্রাণী ধরে খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জাতিগতভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ছিল—এমন অভিযোগ আদালতে প্রমাণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
মতামত দিন