শিশু নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি, মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আদালতের এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ।
রায়ে বলা হয়, মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে শিশু ব্যবহারকারীরা যৌন হয়রানি ও অনুপযুক্ত কনটেন্টের ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি নিউ মেক্সিকোর ‘অন্যায্য কার্যপ্রণালী আইন’ লঙ্ঘন করেছে বলে জুরি বোর্ড মত দেয়।
প্রায় সাত সপ্তাহের শুনানিতে সাবেক কর্মীদের সাক্ষ্য ও অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনা করা হয়। সাবেক মেটা প্রকৌশলী ও হুইসেলব্লোয়ার আরতুরো বেহার আদালতে জানান, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় দেখা গেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে যৌনধর্মী কনটেন্ট দেখানো হতো। এমনকি তার অল্পবয়সী মেয়েও ইনস্টাগ্রামে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব পেয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
মামলায় আরও উঠে আসে, এক সময় ইনস্ট্রাগ্রামের প্রায় ১৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এক সপ্তাহের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত নগ্নতা বা যৌন আচরণের কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন। হাজারো লঙ্ঘনের ভিত্তিতে প্রতিটির জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার জরিমানার হিসাব ধরে মোট ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। কোম্পানিটি দাবি করেছে, কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ ও আত্মক্ষতি সংক্রান্ত কনটেন্টে অভিভাবক সতর্কবার্তার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে করা একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুদের আসক্ত করে তুলতে ইচ্ছাকৃতভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ বলেন, ‘মেটার শীর্ষ কর্মকর্তারা জানতেন তাদের পণ্য শিশুদের ক্ষতি করছে, তবুও তারা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে। আজকের রায় প্রমাণ করেছে—এবার যথেষ্ট হয়েছে।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে