মেটায় বড় ধরনের পুনর্গঠন, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দিকে পুরোপুরি মনোযোগ সরিয়ে নিতে বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নেমেছে মেটা প্ল্যাটফর্মস। এরই অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে নিজেদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ বা ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (২০ মে) ভোর ৪টা থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরকে ইমেইলের মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পাঠাতে শুরু করে মেটা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যাদের মূল দায়িত্ব হবে এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা। মেটার আগের ঘোষণা অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় অবস্থানরত কর্মীদের এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাড়িতে থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, কোম্পানিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করতে সাংগঠনিক কাঠামো আরও নমনীয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জ্যানেল গেইল জানিয়েছেন, কর্মদক্ষতা ও স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধির লক্ষে বড় দলগুলোকে ছোট ছোট ‘পড’-এ ভাগ করে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে মেটার এই আগ্রাসী অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তাদের ব্যয়ের পূর্বাভাসেও। ২০২৬ সালে কোম্পানিটি ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনী ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে, যার বড় একটি অংশ ডেটা সেন্টার, নিজস্ব চিপ তৈরি এবং এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও নেতিবাচক তথ্য সামনে এসেছে। অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় কর্মীদের সন্তুষ্টির হার প্রায় ২৫ শতাংশ এবং কর্মসংস্কৃতি নিয়ে সন্তুষ্টি ৩৯ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ‘মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি সিস্টেমের মাধ্যমে কর্মীদের মাউস ও কিবোর্ডের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে সিইও মার্ক জাকারবার্গ দাবি করেছেন, এই তথ্য কেবল এআই মডেলের মানোন্নয়নের জন্যই সংগ্রহ করা হচ্ছে, নজরদারির জন্য নয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মেটার অন্যান্য বিভাগেও ছাঁটাইয়ের পরবর্তী ধাপগুলো কার্যকর করা হতে পারে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে