মায়ামির রাতে মেসিদের মহারণ, স্বপ্ন বাঁচাতে কেপ ভার্দের লড়াই
চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে এগোচ্ছে লিওনেল মেসির দল। গ্রুপ পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর এবার নকআউট পর্বের প্রথম বাধা কেপ ভার্দে।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোর ৪টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে অবস্থিত হার্ড রক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। ম্যাচটি জিতে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করাই দুই দলের লক্ষ্য হলেও শক্তির বিচারে স্পষ্ট ফেভারিট বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক জয়ে আত্মবিশ্বাসী দলটি আক্রমণভাগে যেমন কার্যকর, তেমনি রক্ষণেও ছিল বেশ সংগঠিত। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া স্কালোনির দলকে এবারের আসরের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি সবার নজর কেড়েছে। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং দলগত ফুটবলের ওপর ভর করেই তারা শেষ ৩২ পর্যন্ত এসেছে। ফলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা হারানোর কিছু না থাকায় নির্ভার হয়েই মাঠে নামবে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তার সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকবেন জুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের মতো তারকারা। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোদের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব।
কেপ ভার্দের জন্য ম্যাচটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি সামলানো। একই সঙ্গে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে গোল করার চেষ্টা করবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচ যত দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকবে, ততই বাড়বে তাদের আত্মবিশ্বাস।
ফিফা র্যাঙ্কিং, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—সব দিক থেকেই আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে। তবে নকআউট পর্বে একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র। তাই শুরু থেকেই সতর্ক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেভারিট হলেও নকআউটের চাপ, কেপ ভার্দের নির্ভার মানসিকতা এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত—সব মিলিয়ে মিয়ামির রাতটি হতে পারে রোমাঞ্চে ভরপুর। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের চোখও তাই থাকবে ভোরের এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে।
এই ম্যাচের বিজয়ী দল আগামী ৭ জুলাই শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়া ও মিশরের ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।
মতামত দিন