কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে একাধিক রেকর্ড গড়লেন মেসি
কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে অতিরিক্ত সময়ে জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যিনি এক ম্যাচেই গড়েছেন একাধিক বিশ্বকাপ রেকর্ড।
শনিবার (৪ জুলাই) মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ২৯তম মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। পরে নাটকীয় লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ের ১১১তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড প্রতিপক্ষের ডিনেই বোর্জেসের গায়ে লেগে জালে জড়ালে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
এই ম্যাচে নেমে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৩০টি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ২০ গোল করা প্রথম খেলোয়াড়ও তিনি।
এছাড়া টানা পাঁচটি নকআউট ম্যাচে গোল করে হাঙ্গেরির গিয়র্গি সারোসি ও ব্রাজিলের ভাভার পাশে নাম লেখান মেসি।
৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪, যা এই বয়সের অন্য সব খেলোয়াড়ের সম্মিলিত গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার বিপক্ষে গোল করে মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা-গোলরক্ষক জুটির রেকর্ডও গড়েন। তাদের সম্মিলিত বয়স ছিল ৭৯ বছর ৬১ দিন।
এছাড়া ২০২২ ও ২০২৬—দুই বিশ্বকাপেই অন্তত সাতটি করে গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন মেসি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোলে সরাসরি অবদান এখন ১২টি (৬ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট), যা পেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ১১টি অবদানকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড।
আরও একটি গোল করলেই ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের এক আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন মেসি।
সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার শেষ ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে তিনি সরাসরি ১০টি গোলে অবদান রেখেছেন (৬ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট)। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলেছেন মেসি, যার মধ্যে ১৪টি দলের বিপক্ষে গোল করেছেন।
এই জয়ে আর্জেন্টিনা শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। আগামী ৭ জুলাই আটলান্টায় শেষ ষোলোতে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা। বিশ্বকাপে এটিই হবে লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহর প্রথম মুখোমুখি লড়াই।
মতামত দিন