Views Bangladesh Logo

হামে শিশুমৃত্যু: শিশুদের প্রতীকী মরদেহ নিয়ে ছাত্রমৈত্রীর বিক্ষোভ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেছে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী। একইসঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করে সর্বাত্মক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ছাত্রসংগঠনটি।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাবেক প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই বিপুলসংখ্যক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, নিজেদের মুনাফার জন্য শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, এ অপরাধের কঠোর বিচার হওয়া উচিত।

তিনি দাবি করেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্তত ৫৮ জেলায় হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, হামের বিস্তার রোধে অবিলম্বে এটিকে মহামারি ঘোষণা করে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, দেশে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক শিশু হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার টিকা সংগ্রহে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় মানের চেয়ে কম দামে কেনার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হামের অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তি জানানোয় ডাকসু নেতাদের সমালোচনাও করেন বক্তারা।

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, হামের এই সংকট প্রাকৃতিক নয়, এটি মানবসৃষ্ট। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে না।

সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ