গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির সমমর্যাদায় এমবাপ্পে
ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে একের পর এক গোল করে নতুন ইতিহাসের পথে এগিয়ে চলেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির সমতায় উঠে এসেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়ও আর্জেন্টাইন মহাতারকার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ফ্রান্স। দলের জয়ে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে, অন্য গোলটি আসে ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে। এই জয়ে দাপটের সঙ্গে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। ২০তম মিনিটে এমবাপ্পে বল জালে পাঠালেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। এরপর ৩১তম মিনিটে তার শট পোস্টে লাগে। ৩৫তম মিনিটে মাইকেল অলিসের দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিকও পোস্টে প্রতিহত হয়। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আর হতাশ হতে হয়নি ফরাসিদের। উসমান দেম্বেলের পাস থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করেন এমবাপ্পে। সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৫৩তম মিনিটে অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির পাস থেকে বল পেয়ে মাইকেল অলিসে ডান দিক দিয়ে দারুণ একটি আক্রমণ গড়ে তোলেন। তার নিখুঁত পাসে সহজ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৭৪তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন এমবাপ্পে। অলিসের চমৎকার রিটার্ন পাস ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন তিনি। ম্যাচের শেষদিকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকলেও ৮৪তম মিনিটে কোচ দিদিয়ের দেশম তাকে বিশ্রামে তুলে নেন।
এই জোড়া গোলে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬-এ। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি লিওনেল মেসির সমতায় উঠে এসেছেন। দুজনেরই গোল এখন ৬টি। এছাড়া বিশ্বকাপের মূল পর্বে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮। অন্যদিকে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল ১৯টি। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসির গোলসংখ্যা স্পর্শ করতে এমবাপ্পের প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও নতুন কীর্তি গড়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। এই ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাদে নকআউটে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯-এ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ। এদিকে পাঁচটি অ্যাসিস্ট নিয়ে চলতি আসরের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার তালিকার শীর্ষেও উঠে গেছেন মাইকেল অলিসে। বারকোলা ও এমবাপ্পের দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
সুইডেনকে সহজেই বিদায় করে এখন শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। জার্মানিকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এমবাপ্পের দিকে থাকবে বিশেষ নজর। কারণ, আর একটি গোল করলেই বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির গোলসংখ্যার সমতায় পৌঁছে যাবেন ফরাসি এই সুপারস্টার।
মতামত দিন