মেসির কাঁধে নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপ্পে, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমতা
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এ গোলের পর গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে একটি পেনাল্টি নষ্ট করলেও শেষ পর্যন্ত গোল করে দলকে ২–০ ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি। সেই গোলেই চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির পাশে উঠে এসেছেন ফরাসি এই অধিনায়ক।
ম্যাচের ২৮তম মিনিটে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও এমবাপ্পের নেওয়া স্পট কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। তবে সেই ব্যর্থতা তাকে দমাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলেই ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
মাত্র ছয় মিনিট পর আবারও এমবাপ্পের জাদু। বাম দিক দিয়ে দারুণ এক দৌড়ে বক্সের ভেতরে বল বাড়িয়ে দেন উসমান দেম্বেলের সামনে। সহজ ফিনিশে ব্যবধান ২–০ করেন দেম্বেলে। একটি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচসেরার মতোই পারফরম্যান্স উপহার দেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে তাকে বিশ্রাম দিতে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশাম। মাঠ ছাড়ার আগে গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশে দুই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান ফরাসি এই তারকা। দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সমর্থকেরাও।
মরক্কোর বিপক্ষে করা গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের অষ্টম গোল। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি এখন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সমতায়। দুজনেরই গোলসংখ্যা এখন আট। তাদের ঠিক পেছনেই রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, যার গোল সাতটি।
এদিকে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলদাতাদের তালিকাতেও দ্রুত এগিয়ে চলেছেন এমবাপ্পে। মাত্র ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ২০। তালিকার শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির গোল ২১টি, যা তিনি করেছেন ছয়টি বিশ্বকাপে ৩১ ম্যাচ খেলে। অর্থাৎ আর মাত্র একটি গোল করলেই মেসির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন এমবাপ্পে, আর দুই গোল করলে এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি।
গোল্ডেন বুট ও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াই আরও জমে উঠতে পারে আগামী কোয়ার্টার ফাইনালগুলোতে। শনিবার নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আর্লিং হলান্ড, আর একই রাতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ফলে এমবাপ্পের রেকর্ডে ভাগ বসানোর কিংবা তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনেই। অন্যদিকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ইতোমধ্যেই নিজের পরবর্তী ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছেন এমবাপ্পে। সেখানে গোল পেলে ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় লিখতে পারেন এই ফরাসি মহাতারকা।
মতামত দিন