সুনামির ঢেউ আঘাত হেনেছে রাশিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে
রাশিয়ার পূর্ব কামচাটকা উপদ্বীপে ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামির ঢেউ আঘাত হেনেছে রাশিয়া, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে। ভূমিকম্প বা সুনামির ঢেউয়ের আঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস রাজ্যের পোর্ট সান লুইসে ‘দ্রুত ও ক্ষতিকারক’, হাওয়াই রাজ্যের কাহুলুইতে ১.৩ মিটার (৪.৫ ফুট) পর্যন্ত উঁচু এবং কাওয়াইহেতে ৪৫ সেমি (১.৫ ফুট) ও হিলো উপসাগরে প্রায় ৩০ সেমি (১ ফুট) ছোট ঢেউয়ের আঘাতের কথা জানিয়েছে দেশটির জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অন্য উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা নেই বলেও জানায় সংস্থাটি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল আটটা ২৫ মিনিটে রাশিয়ার সুদূর পূর্বে উপকূলীয় শহর পেট্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি থেকে ১৩৬ কিলোমিটার (৮৪ মাইল) পূর্বে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় ভূকম্পনটি আঘাত হানে।
এই ভূমিকম্পের পর পরই প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু এলাকায় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করে মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর। সতর্কতা জারি করা হয় হাওয়াই, দক্ষিণ আলাস্কা, আলেউশীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে। সুনামি সতর্কতার অর্থ হল, সমুদ্রের মধ্যে বা তার কাছাকাছি থাকা মানুষের জন্য শক্তিশালী স্রোত বা বিপজ্জনক ঢেউয়ের শঙ্কা রয়েছে। সমুদ্র সৈকত বা বন্দর এলাকায়ও বন্যা হতে পারে।
তবে হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপের ওয়াইলিয়ার সুনামি সতর্কতাকে নামিয়ে এনেছে কর্তৃপক্ষ। এর অর্থ হল, মার্কিন রাজ্যটি জুড়ে যেসব মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন, তারা বাড়ি ফিরতে পারবেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ গুয়াম, রোটা, টিনিয়ান বা সাইপানসহ উত্তর আমেরিকার অন্যান্য মার্কিন এবং কানাডিয়ান প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আর কোনো সুনামির হুমকি নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা বলছে, পোর্ট সান লুইসে ‘একটি দ্রুত এবং ক্ষতিকারক ঢেউ’ চলছে যা ‘মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নিম্ন জোয়ার থেকে উচ্চ জোয়ারে পরিণত হচ্ছে’।
বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলে, ‘জল নেমে যাবে বলে প্লাবিত এলাকায় ফিরে যাবেন না। পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি একাধিকবার ফিরে আসতে পারে এবং প্রথম ঢেউ সবচেয়ে বড় নাও হতে পারে’।
হোনলুলুর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনামির ঢেউ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানতে পারে। তাই সবাইকে উপকূলীয় এলাকা ও সৈকত থেকে দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, রাশিয়ার সাখালিন অঞ্চলের বন্দর শহর সেভেরো-কুরিলস্কের কিছু অংশ অন্তত তিনটি সুনামি ঢেউয়ে প্লাবিত হয়েছে। শহরটি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাশিয়ার পূর্ব উপকূল কামচাটকার খালাকটিরস্কি সৈকতের সার্ফ ক্যাম্পে থাকা প্রায় ৬০ জনকেও সরিয়ে নিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তরুণরা ব্যাকপ্যাক নিয়ে একটি ট্রাকে উঠছেন।
সাখালিন অঞ্চলের গভর্নর ভ্যালেরি লিমারেঙ্কো জানান, কামচাটকা উপদ্বীপের কাছে ভূমিকম্পের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রথম সুনামি ঢেউ সেভেরো-কুরিলস্ক উপকূলে আঘাত হানে। প্রায় দুই হাজার ৫০০ জন জনসংখ্যার শহরটির বাসিন্দাদের সবাইকে উপকূলীয় এলাকা থেকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাসিন্দারা এখন নিরাপদে উঁচু স্থানে অবস্থান করছেন এবং যতোক্ষণ না পর্যন্ত সুনামির আশঙ্কা পুরোপুরি কেটে যায়, তারা সেখানেই থাকবেন। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে’।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শহরের আলাইদ মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্লাবিত হয়েছে। সেখানকার সব কর্মীকেও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থাও পূর্ব উপকূলের হোক্কাইডো প্রিফেকচার ও তোহোকু অঞ্চলের কিছু অংশে তিন মিটার (৯.৮ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের সতর্কতা কার্যকর রেখেছে। সতর্কতা জারি রয়েছে তাইওয়ান ও ফিলিপাইনসহ প্রশান্ত মহাসাগরের ওপারের আরও কয়েকটি দেশেও। সমুদ্রপৃষ্ঠের সামান্য ওঠা-নামা অব্যাহত থাকার শঙ্কায় বাসিন্দাদের উপকূলীয় এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে