Views Bangladesh Logo

রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার কালীঘাটের বাসভবনে সীমিত পরিসরে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আমন্ত্রিত নেতাদের সংখ্যা কম হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায় সাবেক বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেন, স্বরূপনগরের বিধায়ক বীণা মণ্ডল, লোকসভার সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবেক মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্ধ্র প্রদেশের দুই সাবেক বিধায়ককে।

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক কর্মকৌশল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

ক্ষমতা হারানোর পর গত ২ জুন কলকাতায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজপথে আন্দোলনে ফেরার ঘোষণা দেন। ওই সমাবেশে তিনি ‘লড়ব অথবা মরব’ স্লোগান তুলে দলের কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং দলীয় কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। নির্বাচনে ‘ভোট লুটের’ অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বিজেপি তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবে ২ জুনের ওই কর্মসূচিতে দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র আটজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন সোভানদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, অসীমা পাত্র, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষ।

এ ছাড়া দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, মানেকা গুরস্বামী এবং নাদিমুল হককেও মমতার পাশে দেখা যায়।

সমাবেশে বিধায়ক ও সাংসদদের কম উপস্থিতিকে দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত ৪ মে বিজেপির কাছে নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলে মতবিরোধ ও অসন্তোষের লক্ষণ স্পষ্ট হতে শুরু করে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ