তৃণমূল কংগ্রেসে ‘বিদ্রোহ’, ১৯ এমপির এনডিএ-ঘনিষ্ঠতার খবর ঘিরে উত্তেজনা
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী পরাজয়ের পর ভারতীয় রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকসভার অন্তত ১৯ জন সংসদ সদস্য দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-এ যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া একটি চিঠিতে ১৯ জন এমপি স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে তারা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আলাদা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ এবং সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান।
পরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভার ২০ জন এমপি একত্রে সংসদে আলাদা বসার জায়গার জন্য আবেদন করেছেন, যা দলীয় বিভক্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে রাজ্যসভার তিনজন এমপি—প্রকাশ চিক বারাইক, সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দু শেখর রায়—ইস্তফা দিয়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতের দলত্যাগবিরোধী আইনে কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য একসঙ্গে আলাদা হলে সেটি বৈধ বিভক্তি হিসেবে গণ্য হয়। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট আসন সংখ্যা ২৮ হওয়ায় ১৯ জনের অবস্থান দল বিভাজনের সীমা পূরণ করে।
তৃণমূল নেতা কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ‘অপারেশন লোটাস’ নামের কৌশলের মাধ্যমে বিরোধী দল ভাঙার চেষ্টা করছে, যদিও এখনো তা সফল হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া চিঠির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এমন কোনো চিঠি লেখেননি। ফলে দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে।

মতামত দিন