রেকর্ড চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা দা সিলভা
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পেয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। সংকীর্ণ ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে তিনি টানা নয়, তবে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ ভোটের ফল ঘোষণা করেছে দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত।
আদালতের চূড়ান্ত গণনা অনুযায়ী, বামপন্থি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। ডানপন্থি লিবারেল পার্টির প্রার্থী ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। ভোটসংখ্যার হিসাবে লুলা এগিয়ে ছিলেন প্রায় ৪৩ থেকে ৪৪ লাখ ভোটে। এএফপি ও এপিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শতভাগ ভোট গণনা শেষে লুলার জয় নিশ্চিত হয়।
গত ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাননি। ওই দফায় ফ্লাভিও ৪৭ দশমিক ০৩ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে ছিলেন। লুলা পেয়েছিলেন ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। ফলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট হয়। প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা কোনো প্রার্থীর রানঅফে জিতে আসার ঘটনা ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। গণনার শুরুতে ফ্লাভিও এগিয়ে থাকলেও দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভোট গণনা শুরু হলে ফল লুলার দিকে ঝুঁকে পড়ে।
ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে যাওয়ার পর ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকাতে অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে জাইর বলসোনারো দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও। প্রচারণায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি বাবাকে ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ভোটের দিনটি নির্বিঘ্ন ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি শেষ মুহূর্তে ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর নির্দেশ দিলে দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফ্লাভিও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বলসোনারো শিবির এ সময় বাড়ানোর সুবিধা লুলাই পেয়েছেন বলে দাবি করতে পারে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মধ্যেই এবার কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছিলেন লুলা। ফ্লাভিও কঠোর অপরাধদমন নীতিকে প্রচারণার মূল কেন্দ্রে রেখেছিলেন এবং খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। জরিপেও শেষ পর্যন্ত দুজনের লড়াইকে প্রায় সমান বলে দেখানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্রাজিলের কংগ্রেসেও রক্ষণশীলরা জয় পেয়েছিল।
লুলার এ জয়ের ফলে ল্যাটিন আমেরিকার দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশ ব্রাজিল ও মেক্সিকোয় বামধারার নেতৃত্ব বহাল থাকল। অঞ্চলটিতে ট্রাম্পঘনিষ্ঠ ডানপন্থি প্রার্থীদের ধারাবাহিক জয়ের প্রবণতার মধ্যে এটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আগামীকাল ২৭ অক্টোবর ৮১ বছরে পা রাখতে যাচ্ছেন লুলা।
সূত্র: রয়টার্স
মতামত দিন