মিরপুরের কেন্দ্রগুলোতে নিম্ন আয়ের ভোটারের উপস্থিতি বেশি
রাজধানীর মিরপুরের তিনটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। তবে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। ৩ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
সমর্থকরা ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, সকাল ১০টার আগে ভোট দেওয়ার সংখ্যা কম ছিল। বস্তি বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ভোটারদের দোরগোড়ায় গিয়ে আমরা ভোটকেন্দ্রে যেতে তাদেরকে উৎসাহিত করি। ফলে ভোটকেন্দ্রে তাদের মোটামুটি উপস্থিতি চোখে পড়ে। এরপরও সমর্থকরা যতটা আশা করেছিল, ভোটারদের উপস্থিতি ততটা হয়।
সমর্থকরা আরও জানায়, সমাজের অন্যান্য অংশের অনেক ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে। বিশেষ করে কিছু অটল সমর্থক ও তাদের আত্মীয়রা ভোটকেন্দ্রে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেন।
ঢাকা ১৪ আসনের বাগবাড়ি এলাকার আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের এক সমর্থক জানান, তারা ভোটারদের নিয়ে আসার জন্য রিকশা দেয়। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দ্বারে দ্বারে যায়।
মিরপুর ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্রে কর্মরত ওই সমর্থক বলেন, “কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়াতে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি। ফলে বেড়েছে কাস্টিং ভোটের সংখ্যা।”
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শরীফ মো. রওশনুজ্জামান বলেন, “৩ হাজার ৭০ ভোটারের মধ্যে ৯০৮ জন ভোট দিয়েছেন।”
কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও স্বতন্ত্র তিন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্য প্রার্থীদের চারজন পোলিং এজেন্টও কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন।
কল্যাণপুর নতুন বাজার বস্তির বাসিন্দা ইকবাল হোসেন হাশু বলেন, “আমি ও আমার লোকজন ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে দ্বারে দ্বারে গেছি। তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে আনতে রিকশা দিয়েছি। বেলা ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রে ২৪৯৩ ভোটারের মধ্যে মোট ২২০ ভোট পড়ে, যা একই কমপ্লেক্সের অধীনে ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে সর্বোচ্চ।”
হাশু আরও বলেন, "তাদের অতিরিক্ত খরচ পরিশোধ করা হয়, ১৪ জনের মধ্যে শক্তিশালী তিন প্রার্থীর বেশিরভাগই রাজধানীর কল্যাণপুরের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট সরবরাহ করেন" ।
আবার, হযরত শাহ আলী মহিলা কলেজে বিপরীত চিত্র পাওয়া যায়। কারণ, কলেজের একটি কেন্দ্রে দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৭২৯ ভোটের মধ্যে মাত্র ৩০৮টি ভোট পড়ে।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবু সাঈদ নাদিম বলেন, “ভোটারদের এত কম উপস্থিতি আমার কল্পনাতেও ছিল না। প্রার্থীদের সমর্থকদের দায়িত্ব ছিল তাদের আসতে অনুপ্রাণিত করা।”
শেখ লুৎফর রহমানের প্রতীক কেটলি একজন সমর্থক জানান, আমরা প্রচারণা চালিয়েছি। ভোট দিতে উৎসাহী করতে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে অনুরোধ করার দায়িত্ব আমাদের নয়।”
ইলিয়াস মোল্লা ও কামাল আহমেদ মজুমদারের সমর্থকরাও একই ধরনের মন্তব্য করেন। ওইসব এলাকার বস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষরা ভোট দিতে বেশি আগ্রহী। একটি সামান্য আশ্বাস অপরিমেয় কাজ করেছে। বেশ কিছু প্রিজাইডিং অফিসারের বিবৃতিও এই দাবিকে সমর্থন করে।
সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে স্থাপিত একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মল্লিক আসাদুর রহমান বলেন, “সকাল ১০টা পর্যন্ত ২ হাজার ২৬৫টি ভোটের মধ্যে মাত্র ৬৮টি ভোট পড়েছে। কিন্তু বিকেল ৪টার মধ্যে তা পৌঁছেছে ৩৮৯, যা মোট ভোটারের শতকরা ১৭ ভাগ প্রায়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে