কারফিউয়ে 'শান্ত' লস অ্যাঞ্জেলেস, সেনা মোতায়েনে সমালোচিত ট্রাম্প
কারফিউ দেয়ার প্রথম রাতেই তুলে নেয়ার পর লস অ্যাঞ্জেলেসে 'অস্বস্তিকর শান্ত' পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে আরও বিক্ষোভের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে আমেরিকার বিভিন্ন শহর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভের মুখে মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে এই স্থানীয় পর্যায়ের জরুরি অবস্থা ও আংশিক কারফিউ জারি করেন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ব্যস্ততম শহরটির মেয়র কারেন বাস। শহরটির কেন্দ্রস্থলের মাত্র এক বর্গমাইল এলাকায় বুধবার (১১ জুন) সকাল ছয়টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল এই কারফিউ। তবে দুই রাতের গণগ্রেপ্তার ও অভিবাসনবিরোধী অভিযান তীব্র করা হলেও বিক্ষােভ বা সহিংসতা কমে আসায় কারফিউয়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। যদিও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এটি কয়েক দিন বাড়ানো যেতে পারে বলে জানিয়েছিলেন মেয়র বাস।
ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অভিযানের প্রতিবাদে জনতার এই বিক্ষোভ ষষ্ঠদিনে এসে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকাল পর্যন্ত স্তিমিতপ্রায়। তবে এর আগের পাঁচ দিন বিক্ষোভকারী এবং আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি বিশেষত রাতের বেলায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক অভিযানে লক্ষ্যবস্তু হওয়া অভিবাসীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মেক্সিকোসহ অন্য দেশগুলোর পতাকাও ওড়ান বিক্ষোভকারীরা।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার থেকে বুধবার রাতভর তারা 'গণগ্রেপ্তার' করেছে।
একাধিক বিবৃতিতে শহরটির পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে বিক্ষোভ বন্ধ না করায় ২০৩ জন, কারফিউ লঙ্ঘনে ১৭ জন, আগ্নেয়াস্ত্র রাখায় তিনজন এবং পুলিশ অফিসারের ওপর মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণকারী একজন রয়েছেন।
সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট দিনে গড়ে দুই হাজার জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করছে, যা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে ২০২৪ অর্থবছরে গড়ে ৩১১ জনের চেয়ে অনেক বেশি।
এরই প্রতিবাদে শুক্রবার (৬ জুন) থেকে চলমান ওই বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে লস অ্যাঞ্জেলেসে এখন পর্যন্ত ৪৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ১৫৭ জনই হামলা ও বাধা দেয়ায় গ্রেপ্তার হন, যার মধ্যে পুলিশ অফিসারকে হত্যা চেষ্টায় অভিযুক্ত একজনও রয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বিক্ষোভ দমন লস অ্যাঞ্জেলেসে সেনা মোতায়েনের পর স্টেট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস 'স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখলে নিতে ট্রাম্পের ফেডারেল সরকার এসব করছে বলেই অভিযোগ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসের।
প্রেসিডেন্ট এখন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটিকে 'মুক্ত' করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের ওপর 'আক্রমণের' অভিযোগ তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।
চলমান বিক্ষোভের জন্য ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানকে দায়ী করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসও।
বুধবার ৩০ জন আঞ্চলিক মেয়রকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই অভিযান 'ভয়' ও 'আতঙ্ক' সৃষ্টি এবং বাসিন্দাদের 'উত্তেজিত' করেছে।
কারেন বাস বলেন, 'এক সপ্তাহ আগেও সবকিছু শান্তিপূর্ণ ছিল। শুক্রবার অভিযান শুরুর পর পরিস্থিতি কঠিন হতে শুরু করে'।
তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদে নামা জনতার বিক্ষোভ 'শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত' থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া 'বাড়াবাড়ি' পর্যায়ের বলেও মনে করেন মেয়র।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে