মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে তিন চুক্তি
পায়রাতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ, দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ এবং বিদ্যমান এলএনজি টার্মিনালের ক্ষমতা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানি এক্সেলরেট এনার্জির সঙ্গে তিনটি চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা।
আজ বুধবার (৮ নভেম্বর) ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাস্ট্রদূত পিটার ডি হাস এবং মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মার্কিন তৎপরতার মধ্যে তাদের দেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তি সই হলো। তবে এ চুক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক কোন সংশ্লিষ্টতার কথা কোন পক্ষর কাছ থেকে জানা যায়নি। তবে নির্বাচনের আগে এ ধরনের চুক্তি একধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত দেয় কি না সে বিস্তর আলোচনা রয়েছে।
রাস্ট্রদূত পিটার ডি হাস চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বলেন, "বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের চার বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ রয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগের মধ্যে যা দ্বিতীয়।"
এক্সিলারেট এনার্জির সরবরাহ করা এলএনজি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার উপর জোর দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
এক্সিলারেট এনার্জি প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী স্টিভেন কোবোস সরাসরি অংশ না নিতে পারলেও একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল এলএনজি বাজারগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, "দেশটি এলএনজি আমদানি শুরু করার পর থেকে এক্সেলরেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমরা পেট্রোবাংলার সাথে অংশিদারিত্বের মাধ্যমে দেশের দ্রুত বর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে সহায়তা করার জন্য আগ্রহী।"
চুক্তিতে বলা হয়, এক্সিলারেট এনার্জি দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতি বছর শূন্য দশমিক ৮৫ মিলিয়ন টন থেকে ১ মিলিয়ন টন পর্যন্ত ১৫ বছর ধরে কোম্পানিটি বাংলাদেশের কাছে এলএনজি বিক্রি করবে। এর আগে বাংলাদেশ কেবলমাত্র ওমান এবং কাতারের সঙ্গে এমন দীর্ঘ মেয়াদী এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করতে পেরেছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয় ২০২৬ সালের শুরু থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই বছর জানুয়ারি থেকে এলএনজি সরবরাহ করবে কোম্পানিটি।
মাতারবাড়িতে এক্সিলারেট এনার্জির একটি দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ টার্মিণাল রয়েছে। এই টার্মিণালটির সরবরাহ ক্ষমতা আরো ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধির জন্য আরো একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ি আগামী জানুয়ারিতে রি-গ্যাসিফিকেশন ক্ষমতা ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট করবে মার্কিন কোম্পানিটি। এছাড়া পায়রাতে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) এলএনজি সরবরাহ করার জন্য একটি টার্মিণাল নির্মাণ করবে এক্সিলারেট এনার্জি। এজন্য একটি টার্মশীট সই হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, "বিগত ৩ বছরে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে শুধু জ্বালানি খাতেই অতিরিক্ত ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করতে হয়েছে। আমাদের অর্জনগুলো সুসংগঠিত করতে পারলে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। জ্বালানির বহুমুখিকরণের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ হিতে ১১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নেয়া হয়েছে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, "বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যথাযথ বিকাশের জন্য আগামী ১০ বছরে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। বিশাল বিনিয়োগের সুযোগ হবে। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানে কাজেও ব্যাপক বিনিয়োগ আসবে। বিশ্বের নামীদামী কোম্পানিগুলো্র আগ্রহ ব্যাপক।"
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোঃ নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের পেট্টোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বক্তব্য রাখেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে