সমুদ্রের তলদেশেও এবার মানুষের বসবাস, যুক্তরাষ্ট্রে বসল মানববসতি উপযোগী স্টেশন
মহাকাশ কিংবা ভিনগ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্নের পাশাপাশি এবার পৃথিবীর সমুদ্রতলেই স্থায়ী মানববসতি গড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এই খাতে যুক্ত হচ্ছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগও, আর সেই দৌড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘ডিপ’।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির টেনেসি রিফ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৬ ফুট গভীরে স্থাপন করেছে ‘ভ্যানগার্ড’ নামের একটি মানববসতি উপযোগী স্টেশন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত প্রায় চার দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত সমুদ্রে এটিই প্রথম নতুন করে নির্মিত ও স্থাপিত সাবসি হ্যাবিট্যাট।
সমুদ্রতলে মানব বসবাসের ধারণা নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশকে বিখ্যাত সমুদ্রবিজ্ঞানী জাক-ইভ কুস্তোর হাত ধরে ফ্রান্সের উপকূলে শুরু হয়েছিল ‘কনশেল্ফ’ প্রকল্প। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ব্যয়বহুলতার কারণে সেই উদ্যোগ একসময় থমকে যায়। এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চালু থাকা ‘অ্যাকোয়ারিয়াস রিফ বেজ’ প্রকল্পের পর ‘ভ্যানগার্ড’-ই সমুদ্রতলে মানুষের জন্য নির্মিত সবচেয়ে বড় নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রায় ৩৫ ফুট দীর্ঘ ও ৮ ফুট চওড়া ইস্পাত নির্মিত এই স্টেশনে একসঙ্গে চারজন গবেষক বা ‘অ্যাকোয়ানট’ টানা পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। উপরে থাকা একটি ভাসমান বয়ার মাধ্যমে স্টেশনটিতে নিয়মিত তাজা বাতাস সরবরাহ করা হবে। কাছাকাছি অবস্থিত মারাথন শহরে রয়েছে এর শোরসাইড পরিচালন কেন্দ্র ‘ডিপ স্টেশন ফ্লোরিডা’, যেখান থেকে জরুরি উদ্ধার তৎপরতা, ডুবুরি প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমানে গবেষকদের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রত্যয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভ্যানগার্ড। আন্তর্জাতিক মান নির্ধারক সংস্থা ডিএনভি থেকে সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এটি, আর তা পেলে বিশ্বের প্রথম ডিএনভি-স্বীকৃত সাবসি হ্যাবিট্যাট হিসেবে পরিচিতি পাবে ভ্যানগার্ড।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুরুতে প্রবাল প্রাচীর পুনরুদ্ধার, দীর্ঘমেয়াদি সমুদ্রপরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও জলবায়ু-সংক্রান্ত গবেষণায় ব্যবহৃত হবে এই স্টেশন। তবে ভবিষ্যতে কেবল বিজ্ঞান গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ, নভোচারীদের প্রস্তুতিমূলক অনুশীলন এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও শিল্পভিত্তিক কার্যক্রমেও এই স্টেশন কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
মতামত দিন