ডিজিটাল ভূমিসেবা হয়রানিমুক্ত হোক
বর্তমানে দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখের মতো। আর এসব মামলার বড় অংশটি- প্রায় ৬০ শতাংশ মামলা জমিজমা-সংক্রান্ত নানা ধরনের বিরোধের সূত্রে দায়ের করা। সেইসঙ্গে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার বেলাতেই দেখা যায়, জমিজমার অংশীদারত্ব ও বণ্টন এবং এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ দায়ের হয় মামলা-মোকদ্দমা। এসব মামলা অনেক ক্ষেত্রেই চলে বছরের পর বছর ধরে; কিন্তু কেন জমিজমা নিয়ে এত বিরোধ আর মামলা-মোকদ্দমার ঘটনা ঘটে?
তাই সরকার জমির মালিকানা-সংক্রান্ত সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার অবসান এবং ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করে; কিন্তু ভূমি ব্যবস্থাপনা যে দুর্নীতির আঁতুড়ঘর ছিল, সেখান থেকে এখনো সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে আসতে পারেনি।
আজ রোববার (১০ মার্চ) সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, জমির নামজারির ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশনের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ভূমি মন্ত্রণালয় ঘটা করে ঘোষণা দিচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ কমাতে সব ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে; কিন্তু জমি ও ফ্ল্যাটের নামজারির ক্ষেত্রে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা।
নামজারির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে জমা দেওয়ার পরও সেগুলোর হার্ড কপি এসিল্যান্ড অফিসে দিতে হয়। আবেদন গ্রহণ করার পর এসিল্যান্ড অফিস থেকে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এ ব্যাপারে মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হলেও কার কখন শুনানি হবে, তা উল্লেখ করা হয় না। সেবাপ্রত্যাশীরা সকাল থেকে সারাদিন বসে থাকার পরও অনেককে ওই দিন শুনানির জন্য ডাকা হয় না। কাউকে কাউকে পুনরায় আবেদন করতে বলা হয়। আবার এসব বিষয়ে অনলাইনে সঠিক তথ্য মেলে না। অভিযোগ উঠছে ধাপে ধাপে হয়রানির ফাঁদ পেতে রাখা হচ্ছে ঘুষ আদায়ের জন্য। সরেজমিনেও মিলেছে এর প্রমাণ।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, রাজধানীর এসিল্যান্ড অফিসে নামজারির আবেদনের জন্য গেলেই দেখা মেলে সুযোগসন্ধানী লোকদের। নানা ঝামেলার কথা শুনিয়ে এক পর্যায়ে চাওয়া হয় ঘুষ। অন্যদিকে ডিজিটাইজেশনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রমের জন্য খোদ ভূমি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগের নিরীক্ষকরা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিরীক্ষা করতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখার জন্য অনলাইনে এক্সেস না দেয়ার কারণে নিরীক্ষা করা যাচ্ছে না।
জমি বেচাকেনা, রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, পর্চা, খতিয়ান, খাজনা প্রদান, ভূমি জরিপ ইত্যাদি সেবা পেতে সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা যেন এমনভাবে করা হয়, যাতে কোনো প্রকার নাগরিক ভোগান্তিতে না থাকে। সেইসঙ্গে অনিষ্পত্তি-সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির লক্ষ্যসহ ভূমি অফিসের দুর্নীতি-অনিয়ম ও প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের দৌরাত্ম্য দূর করে জমির সাধারণ মালিকদের স্বস্তি ফেরাতে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি গতিশীল করতে হবে- এটাই প্রত্যাশা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে