লেবানন-ইসরায়েল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু, উদযাপনে মুখর বৈরুত
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী বৈরুতে উদযাপনের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যরাত পার হতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশে গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়, যা যুদ্ধবিরতির সূচনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিশ্চিত করেন, ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির খবরে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু পরিবার দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরে না ফেরার জন্য সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে গোলাবর্ষণ চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যদিও এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে অর্থাৎ স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তারা শেষ হামলা চালায়।
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হিজবুল্লাহ শান্তিপূর্ণ আচরণ করবে বলে আশা করি। যদি তারা তা করে, তবে এটি তাদের জন্য একটি অসাধারণ মুহূর্ত হবে। আর কোনো হত্যা নয়।’
গত ২ মার্চ থেকে ইরানের সমর্থনে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এই সংঘর্ষ চলছিল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তিনি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন, তবে লেবাননের ভেতরে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই লেবাননের প্রধান দাবি ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্যও ছিল এটি অর্জন করা।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধবিরতিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের অংশ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কাতার, জর্ডান ও বাহরাইনও এই যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে