আজ ‘লেজি মম’স ডে’, মায়েদের জন্য থাকুক একটু বিশ্রাম
প্রতিদিনের সংসার সামলাতে গিয়ে নিজের জন্য সময় বের করার সুযোগ অনেক মায়ের জীবনেই খুব কম। সন্তানদের দেখভাল, রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া, স্কুলে আনা-নেওয়া কিংবা পরিবারের নানা প্রয়োজন মেটাতে দিনের বড় অংশ কেটে যায়। এই নিরবচ্ছিন্ন ব্যস্ততার মধ্যেই মায়েদের কিছুটা বিরতি দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘লেজি মম’স ডে’। ২০২৬ সালে দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর।
নামের মধ্যে ‘লেজি’ বা অলস শব্দটি থাকলেও দিবসটির উদ্দেশ্য অলসতাকে উৎসাহ দেওয়া নয়। বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক দায়িত্ব থেকে মায়েদের এক দিনের জন্য কিছুটা মুক্তি দেওয়া এবং তাদের বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময়ের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়াই এর মূল ভাবনা। এটি একটি অনানুষ্ঠানিক দিবস, যা মূলত মায়েদের কাজের চাপ কমিয়ে স্বস্তির কিছু মুহূর্ত কাটানোর আহ্বান জানায়।
দিনটি উপলক্ষে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারেন। রান্না, বাসন ধোয়া, কাপড় পরিষ্কার কিংবা ঘর গোছানোর মতো কাজগুলো অন্যরা সামলে নিলে একজন মা নিজের পছন্দের কাজে সময় দিতে পারেন। চাইলে দীর্ঘ সময় ঘুমানো, বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা কিংবা নিরিবিলিতে এক কাপ চা খেয়েও কাটানো যেতে পারে এই দিন।
মাকে স্বস্তি দেওয়ার আয়োজন খুব বড় কিছু হতে হবে এমনও নয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নাশতা তৈরি করে দেওয়া, সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া কিংবা দিনের খাবার বাইরে থেকে এনে দেওয়া হতে পারে ছোট অথচ অর্থবহ উদ্যোগ। কেউ চাইলে বাড়িতেই নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। আবার কয়েক ঘণ্টার জন্য ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকাও হতে পারে মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার একটি উপায়।
বিশ্রামকে অনেক সময় অলসতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলেও বিষয় দুটি এক নয়। প্রতিদিনের শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়া মানুষের কর্মক্ষমতা ও স্বস্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পরিবারের অন্যদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বে থাকা মায়েদের জন্য নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। ‘লেজি মম’স ডে’ সেই কথাটিই কিছুটা ভিন্ন ও মজার নামের মাধ্যমে সামনে আনে।
দিবসটির নির্দিষ্ট উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারের মাধ্যমে এটি পরিচিতি পেয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই দিনটিকে আনুষ্ঠানিক উৎসবের চেয়ে মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাদের কাজের চাপ কিছুটা ভাগ করে নেওয়ার একটি প্রতীকী উপলক্ষ হিসেবে দেখাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
মতামত দিন