Views Bangladesh Logo

রাত জেগে খেলা দেখছেন; ক্ষুধায় কী খাবেন, কী এড়াবেন

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

বিশ্বকাপ চলছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। সময়ের ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশের দর্শকদের বেশির ভাগ ম্যাচ দেখতে হচ্ছে গভীর রাতে, কখনো ভোররাতে। ফলে এক মাসের জন্য বদলে গেছে অসংখ্য মানুষের ঘুম আর খাওয়ার রুটিন। খেলা দেখতে দেখতে রাত দুইটা-তিনটায় ক্ষুধা লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই রাতজাগা মৌসুমে কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন—তার ওপরই নির্ভর করছে পরের দিনের কর্মক্ষমতা আর শরীরের সুস্থতা।

রাতজাগার সঙ্গী মুড়ি-চানাচুর, কিন্তু...
বাঙালির খেলা দেখার চিরচেনা সঙ্গী মুড়ি-চানাচুর, চিপস, ঝালমুড়ি কিংবা ভাজাপোড়া। মাঝেমধ্যে এসব খাওয়ায় দোষ নেই। সমস্যা হলো, টানা এক মাস প্রতি রাতে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেলে অ্যাসিডিটি, বদহজম আর ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে গভীর রাতে ভারী খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রাতের ক্ষুধায় কী খাবেন
গভীর রাতে ক্ষুধা লাগলে হালকা অথচ পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই ভালো। কিছু সহজ বিকল্প হতে পারে—

মৌসুমি ফল:
কলা, পেয়ারা, আপেল বা শসা সহজে হজম হয়, পেটও ভরায়।
বাদাম ও ছোলা: অল্প পরিমাণ কাঠবাদাম, চীনাবাদাম বা সেদ্ধ ছোলা দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
টক দই বা দুধ: রাতে হালকা ক্ষুধায় এক কাপ টক দই ভালো বিকল্প; দুধ ঘুমেও সাহায্য করে।
ঘরে বানানো হালকা নাশতা: চিপসের বদলে মুড়ি অল্প শসা-টমেটো দিয়ে মেখে খেলে তেল-লবণ দুটোই কম পড়ে।

চা-কফিতে সাবধান
ঘুম তাড়াতে অনেকে ম্যাচের ফাঁকে ফাঁকে চা-কফি খান। মনে রাখা দরকার, ক্যাফেইনের প্রভাব শরীরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে। ম্যাচ শেষে ঘুমাতে চাইলেও তখন আর ঘুম আসে না। ফলে খেলা শেষ হওয়ার অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা আগে থেকে চা-কফি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর বদলে পানি বা লেবুপানি পান করা যেতে পারে। রাত জাগলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তাই খেলার পুরো সময়টায় পাশে এক বোতল পানি রাখা ভালো অভ্যাস।

রাতের খাবার আগেভাগে সেরে নিন
যেদিন গভীর রাতে ম্যাচ, সেদিন রাতের মূল খাবারটা তুলনামূলক আগে ও হালকা করে খেয়ে নেওয়া ভালো। ভাত-মাংসের ভারী আয়োজনের বদলে সবজি, ডাল আর অল্প ভাত বা রুটি রাখা যেতে পারে। এতে খেলা দেখার সময় ঝিমুনি কম আসবে, হজমেও চাপ পড়বে না।

ঘুমের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া জরুরি
রাত জেগে খেলা দেখার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় ঘুমে। টানা ঘুমের ঘাটতি মনোযোগ, মেজাজ ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। তাই সুযোগ পেলে দিনের বেলা ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ঘুম বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নেওয়া যেতে পারে। আর যেসব ম্যাচ নিজের প্রিয় দলের নয়, সেগুলোর হাইলাইটস দেখে রাতটা ঘুমিয়ে নেওয়াই ভালো।

ফুটবলের এই উৎসব চার বছরে একবারই আসে। উদ্‌যাপন চলুক, তবে শরীরকে বঞ্চিত করে নয়। খাবারে একটু সচেতনতা আর ঘুমের হিসাবটা মিলিয়ে চললে বিশ্বকাপের আনন্দ আর সুস্থতা—দুটোই থাকবে হাতের মুঠোয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ