Views Bangladesh Logo

বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করল লাওস

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে এবং ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্দেশনায় মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধ প্রবেশ, মানবপাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালাল এবং শ্রমিক এনে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

তবে নির্ধারিত চুক্তির মেয়াদ থাকা বড় ধরনের সরকারি অনুমোদিত অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো এ স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে।

নির্দেশনার ফলে ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা কিংবা শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উদ্যোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের লাওসে প্রবেশ বা কর্মসংস্থানের অনুমতি দিতে পারবে না। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসার অনুমোদনও বন্ধ থাকবে।

নতুন নিয়ম অমান্য করলে জরিমানা, বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন শাস্তির মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্টদের।

অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আমদানি বা নিয়োগ করলে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের ঘটনায় নিয়োগকর্তাকে ২৫ লাখ লাও কিপ, যা প্রায় ১১০ মার্কিন ডলারের সমান, জরিমানা দিতে হবে। অন্য শ্রম ইউনিটে পুনর্বণ্টনের জন্য শ্রমিক আমদানি করলেও একই জরিমানা প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে অন্য শ্রম ইউনিটে নিয়োজিত কর্মী ব্যবহার বা গ্রহণকারী নিয়োগকর্তাকে প্রতি কর্মীর জন্য ২০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।

অনুমতি ছাড়া কোনো শ্রমিক নির্ধারিত কর্মস্থল ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে কাজ করলে প্রতি ব্যক্তি ও প্রতি ঘটনার জন্য ১০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। ওই শ্রমিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর যাবতীয় খরচ নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনকারীকে বহন করতে হবে।

একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

লাওসে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন, নির্দেশনায় সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে, নতুন সিদ্ধান্তে কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে, তাও স্পষ্ট করা হয়নি। বাংলাদেশ থেকে লাওসে শ্রম অভিবাসন ঐতিহাসিকভাবে মূলত নির্মাণ ও উৎপাদন খাতনির্ভর।

সূত্র: দ্য লাওতিয়ান টাইমস

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ