দক্ষিণ কোরিয়া–চেক প্রজাতন্ত্র ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া ও দুইবারের রানার্সআপ চেক প্রজাতন্ত্র। শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এশিয়ার সবচেয়ে সফল দল দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে ইউরোপের দলটি।
বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ২৫তম স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার দলে রয়েছেন তারকা ফুটবলার সন হিউং-মিন, লি কাং-ইন ও কিম মিন-জে। ২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট কোরিয়ানরা ‘এ’ গ্রুপের অন্যতম ফেবারিট। একই গ্রুপে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা থাকায় শুরুতেই জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্য থাকবে তাদের।
তবে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৪০তম স্থানে থাকা চেক প্রজাতন্ত্রকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। অ্যাডাম হ্লোজেক, প্যাট্রিক শিক ও পাভেল সুলকের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটি যেকোনো সময় অঘটন ঘটাতে সক্ষম।
সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক ও সুপারস্টার সন হিউং-মিনের দিকে। বর্তমানে তিনি মার্কিন ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির হয়ে খেলছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের চতুর্থ আসর। অনেকের ধারণা, এটি তার শেষ বিশ্বকাপও হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা নেই।
সম্প্রতি একটি প্রীতি ম্যাচে দুই গোল করে দারুণ ফর্মের ইঙ্গিত দিয়েছেন সন। ফলে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষেও তার কাছ থেকে গোলের প্রত্যাশা থাকবে সমর্থকদের।
২০২২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া শেষ ষোলোতে উঠেছিল। সে সময় পর্তুগালের বিপক্ষে ইনজুরি সময়ে হোয়াং হি-চানের জয়সূচক গোলে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল দলটি। বর্তমানে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের এই ফরোয়ার্ড আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে একই রকম নায়কোচিত ভূমিকা রাখতে মুখিয়ে আছেন।
অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্বকাপ ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। চেকোস্লোভাকিয়া হিসেবে তারা ১৯৩৪ ও ১৯৬২ সালে রানার্সআপ হয়েছিল। তবে এরপর বিশ্বকাপে তাদের সাফল্য খুব একটা উজ্জ্বল নয়। ১৯৯০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই ছিল তাদের শেষ বড় অর্জন।
২০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা চেকরা ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউট জয়ের মাধ্যমে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কোচ মিরোস্লাভ কুবেকের দায়িত্ব গ্রহণের পর দলটির পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তন আসে। সংকটময় অবস্থা থেকে দলকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
চেক দলে রয়েছে ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার স্ট্রাইকার টমাস চোরি, যিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি হতে পারেন। এছাড়া বায়ার লেভারকুসেনের তারকা স্ট্রাইকার ও ইউরো ২০২০-এর যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা প্যাট্রিক শিক এবং হফেনহাইমের অ্যাডাম হ্লোজেক আক্রমণভাগে বাড়তি শক্তি যোগ করবেন।
মিডফিল্ডে অভিজ্ঞ টমাস সউচেক ও ৩৫ বছর বয়সী ভ্লাদিমির দারিদার ওপরও আস্থা রাখবেন কোচ কুবেক। তাদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের এই ম্যাচটি হতে পারে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই। একদিকে এশিয়ার অন্যতম সেরা দল দক্ষিণ কোরিয়া, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফেরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী চেক প্রজাতন্ত্র—দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীরা জমজমাট একটি ম্যাচের প্রত্যাশা করছেন।

মতামত দিন